বাইরে থেকে তালা, ভেতরে ক্ষতবিক্ষত দেহ, দেবস্মিতা পালের মৃত্যুতে তোলপাড় রাজধানী!

দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট’ থেকে উদ্ধার হলো দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের (৪৯) রক্তাক্ত দেহ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পেশায় মেধাবী এই বাঙালি অধ্যাপিকা ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও ভেতরে কী করে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা এখন তদন্তকারীদের কাছে এক জটিল ধাঁধা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। দিদি দেবস্মিতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বোন দেবারতি উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছন। সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝোলানো দেখে তাঁর সন্দেহ গাঢ় হয়। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তিনি দেবস্মিতার নিথর ও রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

তদন্তে নেমে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও ফরেনসিক টিম বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। প্রথমত, ফ্ল্যাটের দরজায় কোনো জোর করে প্রবেশের চিহ্ন নেই। দরজা ভাঙা হয়নি, যার অর্থ আততায়ী দরজার ওপাশ থেকে পরিচিতের বেশেই ভেতরে ঢুকেছিল। দ্বিতীয়ত, বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যাওয়ার অর্থ, ঘাতক অত্যন্ত ঠান্ডা মাথার এবং সে সিসিটিভি ক্যামেরা বা প্রতিবেশীদের নজর এড়াতে এই ছক কষেছিল। মৃতদেহের মাথার গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং কব্জিতে কাটার দাগ থেকে স্পষ্ট, মৃত্যুর আগে ঘাতকের সঙ্গে অধ্যাপিকার তুমুল ধস্তাধস্তি হয়েছিল। মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকা কালশিটে চিহ্নগুলো সেই লড়াইয়েরই ইঙ্গিত বহন করছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেবস্মিতা অত্যন্ত হাসিখুশি ও স্বাভাবিক ছিলেন। ঘটনার ঠিক আগেও তিনি নিজের মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছিলেন। মায়ের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন অধ্যাপিকা আচমকা এমন পরিস্থিতির শিকার হলেন কীভাবে, তা নিয়ে শোকের ছায়া সহকর্মী ও পড়ুয়াদের মধ্যে। ২০২৩ সালে শিবাজী কলেজে স্থায়ী পদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে দীর্ঘ সময় তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধ্যাপনা করেছেন।

পূর্ব দিল্লির ডিসিপি রাজীব কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার মোটিভ খুঁজতে গিয়ে পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি পেশাগত কোনো রেষারেষি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা নিশ্চিত করতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ জোর তল্লাশি শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মৃতার কল লিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘাতককে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সব মিলিয়ে এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ড এখন দিল্লির পুলিশের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy