‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এবার নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। বিগত সরকারের আমলের প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের তথ্য সামনে আসতেই নবান্নের নির্দেশে শুরু হয়েছে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া (Audit)। যারা নিয়ম ভেঙে বা ভুয়া কাগজ দেখিয়ে সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।
দুর্নীতির ধরন ও তদন্তের প্রক্রিয়া: তদন্তকারী সূত্রে খবর, একাধিক জেলায় প্রকৃত দুঃস্থদের বঞ্চিত করে বিত্তবান বা প্রভাবশালীরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ অর্থের বিশাল অংশ নয়ছয়ের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর। নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় যা যা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
আধার ও নথি যাচাই: প্রতিটি উপভোক্তার নথিপত্র ফের খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের তথ্য অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সশরীরে পরিদর্শন: বিডিও এবং পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে।
কী ধরণের শাস্তি হতে পারে? এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন উপভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে যে যে ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে:
অর্থ ফেরত: নিয়ম বহির্ভূতভাবে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। ব্যর্থ হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
আইনি মামলা: জালিয়াতি (Fraud), সরকারি নথি জাল করা এবং তহবিল তছরুপের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা রুজু হতে পারে।
জেলের সাজা: দোষী প্রমাণিত হলে কয়েক বছর পর্যন্ত জেল বা বড় অঙ্কের জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
দায়িত্বে অবহেলা: যদি সরকারি কোনো আধিকারিক বা কর্মী এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Inquiry) ও বরখাস্তের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
নবান্নের এই কড়া নির্দেশের পর এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।





