বাংলায় ‘খারিজি’ মাদ্রাসা কত? জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট না দিলে কি বন্ধ হবে প্রতিষ্ঠান?

রাজ্যের স্বীকৃতিহীন, অনিবন্ধিত এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে তাদের এলাকায় থাকা অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলির বিস্তারিত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই রিপোর্ট নবান্নে জমা দিতে বলা হয়েছে।

কেন এই কড়াকড়ি? প্রশাসনিক সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস, পাঠ্যক্রম ও ছাত্রছাত্রীদের তথ্য নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। অতীতের সরকারগুলির বিরুদ্ধে এই বিষয়টি উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠলেও, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতীত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মতো ঘটনার পর সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছিল।

কী কী খতিয়ে দেখা হবে? সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যেসব মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবে না বা সরকারি নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জরিপের মূল ক্ষেত্রগুলি হলো:

  • অর্থের উৎস: মাদ্রাসাগুলিতে তহবিলের উৎস কী?

  • পাঠ্যক্রম: সেখানে কী ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে?

  • শিক্ষক ও ছাত্র: শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের যাবতীয় তথ্য।

  • অবৈধ পরিকাঠামো: সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ থাকলে তা ভাঙার ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

এসআইটি গঠনের সম্ভাবনা: প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে মাদ্রাসাগুলির অর্থায়নের উৎস খতিয়ে দেখার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে অনুরূপ অভিযানে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চালানো হয়েছিল।

মাদ্রাসাগুলি কয় প্রকার? বর্তমানে রাজ্যে মাদ্রাসাগুলিকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: ১. সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত: সরকারি সহায়তায় ও পর্ষদের পাঠ্যক্রম মেনে চলে। ২. স্বীকৃত কিন্তু অনুদানবিহীন: পর্ষদের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করলেও সরকারি অর্থ পায় না। ৩. অনিবন্ধিত ও ‘খারিজি’: এগুলি সাধারণত সরকারি শিক্ষা বোর্ডের আওতার বাইরে এবং শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই তৃতীয় ধরনের মাদ্রাসাগুলির প্রকৃত সংখ্যাই এখন খুঁজে বের করতে চাইছে প্রশাসন।

প্রতিক্রিয়া: মাদ্রাসা মহলের একাংশ এই স্বচ্ছতাকে স্বাগত জানালেও, অনেকেই আবার সরকারি এই নজরদারি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। তবে প্রশাসনিক মহলের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য। ৫ জুলাইয়ের রিপোর্টের পর সরকার ঠিক কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।