রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। সোমবার সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হওয়া লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি শাব্বির আহমেদ লোনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দাদের দাবি, দিল্লির একাধিক হিন্দু মন্দির এবং জনবহুল এলাকায় রক্তক্ষয়ী হামলার ছক কষেছিল এই জঙ্গি।
রেকি করা হয়েছিল কালকাজি ও লোটাস টেম্পল
তদন্তে জানা গিয়েছে, শাব্বির দিল্লির কালকাজি মন্দির, লোটাস টেম্পল এবং ছাতারপুর মন্দিরে একাধিকবার রেকি করেছে। শুধু তাই নয়, জনবহুল কনট প্লেসেও ঘুরে ঘুরে ভিডিও তুলেছিল সে। এই সব রেকি ভিডিও ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে তার হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। লস্করের মূল টার্গেট ছিল দিল্লির ব্যস্ততম মন্দিরগুলোতে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হামলা চালানো।
বাংলাদেশে নতুন ‘মডিউল’: টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ?
জিজ্ঞাসাবাদে আরও একটি ভয়ংকর তথ্য সামনে এসেছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI এবং লস্কর যৌথভাবে বাংলাদেশে TRF (The Resistance Front)-এর আদলে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠন খোলার চেষ্টা করছে।
-
এর জন্য বাংলাদেশি যুবকদের নিয়োগ করা হচ্ছে।
-
এই মডিউলের অন্যতম পাণ্ডা হলো সাজ্জাদ গুল, যে ২০১৫ সালে শাব্বিরের সাথেই কাশ্মীরে ধরা পড়েছিল।
-
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে সাজ্জাদ পাকিস্তানে পালটে গেলেও শাব্বিরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল আত্মগোপন করে সংগঠন গোছানোর জন্য।
মালদা ও কলকাতার যোগসূত্র
শাব্বিরের জালে জড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামও। গত মাসেই দিল্লি পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উমর ফারুক এবং রবিল উল ইসলাম নামে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল।
-
উমর ফারুক মালদার বাসিন্দা হলেও কলকাতাকেই ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল।
-
তদন্তে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে বসে এই শাব্বিরই উমর ও রবিলকে দিয়ে ভারতে নাশকতার জাল বুনছিল।
বর্তমানে এই ঘটনার জেরে দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। লস্করের এই নতুন নেটওয়ার্কের শিকড় আর কতদূর ছড়িয়ে, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।