বাংলাদেশে চরম অরাজকতা! ময়মনসিংহে হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ, ভারতীয় হাই-কমিশনে হামলা

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসতেই ওপার বাংলায় ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এই অশান্তির মাঝেই ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ (BSF) সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে।
ময়মনসিংহের মর্মান্তিক ঘটনা: বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস। তিনি ভালুকার ডুবালিয়া পাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।
বর্বরতা: অভিযোগ, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অজুহাতে রাত ৯টা নাগাদ উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে পিটিয়ে হত্যার পর দেহটি একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ: পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
ভারতীয় হাই-কমিশনে হামলা ও ভারত-বিদ্বেষ: হাদির হত্যাকারীদের ভারত আশ্রয় দিয়েছে— এই সন্দেহে বিক্ষোভকারীরা তীব্র ভারত-বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।
চট্টগ্রামে হামলা: শুক্রবার রাত দেড়টা নাগাদ চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ে বিক্ষোভকারীরা। তবে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
দাবি: বিক্ষোভকারীদের দাবি, সন্দেহভাজনদের ভারতের পক্ষ থেকে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ভারতীয় হাই-কমিশন বন্ধ রাখতে হবে।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ও প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের প্রার্থী ওসমান হাদির প্রয়াণ ঘটেছে। গত সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারের সময় আততায়ীরা তাঁর মাথায় গুলি করেছিল। হাদির মৃত্যুতে গোটা দেশে শোকের ছায়া থাকলেও, তাকে কেন্দ্র করে ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর মতো সংবাদমাধ্যমের অফিস এবং ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
দেশের এই পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তিনি হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার এবং কোনো সহানুভূতি না দেখানোর অঙ্গীকার করেছেন।