প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বাম্পার উপহার সরকারের! ‘বয়ো আনন্দ’ প্রকল্পে মিলবে তাক লাগানো সুযোগ

দিল্লির প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরও নিরাপদ, আরামদায়ক এবং আনন্দময় করে তুলতে এক অনন্য উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। রাজধানীর বয়স্ক নাগরিকদের জন্য খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘বয়ো আনন্দ’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় মূলত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের জন্য বিশেষ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে তাঁরা নিজেদের একাকীত্ব কাটিয়ে একটি সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর সামাজিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সমাজের এক অমূল্য সম্পদ হলেন প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা, শারীরিক সুস্থতা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রবীণরা যাতে তাঁদের বাড়ির அருகেই এমন একটি সুস্থ পরিবেশ পান, যেখানে সমবয়সীদের সঙ্গে সময় কাটানো যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা। সরকারি এই কেন্দ্রগুলি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা যোগ্য সংস্থাগুলিকে বার্ষিক ২.৪০ লক্ষ টাকা অর্থাৎ মাসিক ২০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হবে।
কী কী সুবিধা মিলবে ‘বয়ো আনন্দ’ কেন্দ্রে?
বিনোদন ও ইনডোর গেমস: কেন্দ্রগুলিতে প্রবীণদের বিনোদনের জন্য ক্যারাম, লুডোর মতো ইনডোর গেমসের পাশাপাশি আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, ফ্যান, কুলার, টেলিভিশন, কম্পিউটার, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন এবং বইয়ের সুব্যবস্থা থাকবে।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস: নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং ধ্যানের ক্লাসের পাশাপাশি প্রতি মাসে বিশেষ চিকিৎসা শিবির এবং প্রাথমিক চিকিৎসার কিটের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সৃজনশীল ও সামাজিক কার্যক্রম: গল্প বলার আসর, চিত্রাঙ্কন, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প, পুষ্টি সংক্রান্ত পরামর্শ এবং খেলাধুলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, প্রবীণ নাগরিক দিবস ও জাতীয় ছুটির দিনগুলিতে বছরে অন্তত ৫ থেকে ৬টি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই কেন্দ্রগুলি। ঘরবন্দি জীবন ও নিঃসঙ্গতা থেকে প্রবীণদের মুক্তি দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে দিল্লির সরকারের এই প্রজেক্ট এক বড় পদক্ষেপ হতে চলেছে।