২২ হাজার কোটির দাবি মাত্র ৬ কোটিতে রফা! মুকেশ আম্বানির বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কি বড় বিপদে পড়লেন সুভাষ চন্দ্র?

দেশের কর্পোরেট মহলে দুই মহারথীর সংঘাত ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে। এসেল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্রের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে এবার অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান নিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (RIL)। গত ২৮ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিবৃতি জারি করে এসেল প্রধানের সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় খণ্ডন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর দাবিগুলিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মুকেশ আম্বানির এই শীর্ষ কর্পোরেট সংস্থা।
রিলায়েন্সের মুম্বইস্থিত কর্পোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাদের মালিকানাধীন কোনো গণমাধ্যম বা মিডিয়া ব্র্যান্ডকে কখনওই ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নিশানা করার জন্য ব্যবহার করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না। কর্পোরেট জগতে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং সম্পাদকীয় শালীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে রিলায়েন্স স্পষ্ট করেছে যে, ভিত্তিহীন এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
২২ হাজার কোটির দাবি বনাম ৬.২৫ কোটির রফা মূলত ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLT)-এর একটি রায়ের পরই এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। ট্রাইব্যুনালের অনুমোদিত দেউলিয়া কার্যক্রমে একটি সমঝোতা অনুযায়ী, যেখানে প্রায় ২২,০০৬ কোটি টাকার স্বীকৃত দাবি ছিল, সেখানে সুভাষ চন্দ্রকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই আইনি নিষ্পত্তির আবহে এসেল প্রধানের কিছু মন্তব্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাজার।
সমস্ত আইনি বিতর্ক ও কড়া ভাষায় অভিযোগ খণ্ডন সত্ত্বেও, রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে বয়সে প্রবীণ শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা হিসেবে সুভাষ চন্দ্রের প্রতি এক প্রকার পেশাদার শ্রদ্ধা বজায় রাখা হয়েছে এবং তাঁর ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টার জন্য শুভকামনা জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ্য বিতর্ক এড়িয়ে কর্পোরেট মহলে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা অটুট রাখার বার্তা দিয়ে রিলায়েন্সের এই বিবৃতি দেশের ব্যবসা ও গণমাধ্যম জগতে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।