সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী প্রকাশ পেতেই তুলকালাম! কেন্দ্রের চাপে কি তবে বইয়ের পাতা থেকে বাদ পড়ছে মোদি-চীন সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য?

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহু প্রতীক্ষিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ’ (Belonging: A Journey of Love) ভারতে প্রকাশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। আন্তর্জাতিক বাজারে বইটি মূল বা অপরিবর্তিত রূপে প্রকাশের প্রস্তুতি থাকলেও, ভারতের ক্ষেত্রে প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সেন্সরশিপ ও চাপের অভিযোগ তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
কংগ্রেস শিবিরের দাবি, বইটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) এবং মোদি সরকারের কার্যকালে চীনের সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে যা লেখা রয়েছে, তাতেই আপত্তি রয়েছে শাসক শিবিরের। আর সেই কারণেই প্রকাশনা সংস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে বইটির বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়ার বা বদলানোর ফন্দি আঁটা হয়েছে।
রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সারা বিশ্বে যদি একই রূপে বইটি প্রকাশিত হতে পারে, তবে ভারতের মাটিতে প্রকাশের বেলায় ঠিক কী এমন সমস্যা তৈরি হলো? বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দেশের গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
পাশাপাশি, কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈও পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার দেওয়া সাফাইকে ‘দুর্বল ও কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আক্রমণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ (অধুনা টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পূর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা ‘এক্সাম ওয়ারিয়র’ এবং আরএসএস-সংশ্লিষ্ট একাধিক বই নির্দ্বিধায় প্রকাশ করলেও, বিরোধী নেত্রীর স্মৃতিকথার বেলায় এসে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করছে এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে সোনিয়া গান্ধীর এই স্মৃতিকথা ঘিরে দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।