রাহুল গান্ধীর তোপের মুখেই কি মোদী সরকারের ডিজিটাল কোচিংয়ের ঘোষণা? বিস্ফোরক দাবি জয়রাম রমেশের!

ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোচিং সেন্টার এবং শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার কেন্দ্র সরকারের ডিজিটাল কোচিং উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর লাগাতার চাপের মুখেই তড়িঘড়ি বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জয়রাম রমেশের অভিযোগ, দেশের সাধারণ পরিবারগুলি আজ সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের চেয়েও বহুগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে কোচিং মাফিয়াদের পকেটে ভরতে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বিস্ফোরক পোস্ট করে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে জয়রাম রমেশ স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে রাজস্থানের কোটায় ‘ছাত্রোঁ কি গূঁজন’ নামক একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে গ্রাস করে নিয়েছে একটি সম্পূর্ণ শোষণমূলক কোচিং ইন্ডাস্ট্রি। ভারতীয় পরিবারগুলি আজ বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারে এমন এক পরিমাণ অর্থ ঢালছে, যা ভারত সরকারের মোট শিক্ষা বিনিয়োগের আড়াই গুণেরও বেশি। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, ঠিক এই জনরোষ ও জনদাপের মুখেই টিকতে না পেরে গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং চালুর কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিগত সরকারের নীতি ও ট্র্যাক রেকর্ড দেখে সাধারণ মানুষের ভরসা করার কোনো অবকাশ নেই, কারণ তাঁদের বহুচর্চিত ‘ফ্রি কোচিং স্কিম’ গত তিন বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের এই আকস্মিক নীতি ঘোষণা এবং তার আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি সাম্প্রতিক সংসদীয় প্যানেলের পর্যালোচনার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন জয়রাম রমেশ। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক ন্যায় ও অধিকারিতা মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পেশ করা সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী— বিগত তিন বছরে বিনামূল্যে কোচিংয়ের আওতায় ১০,৫০০ জন শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও বাস্তবে মাত্র ২,৭৯০ জন শিক্ষার্থীকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের মোটে ২৬ শতাংশ মাত্র। শুধু তাই নয়, লাগাতার কমানো হয়েছে এই প্রকল্পের বাজেটও, যেখানে বিগত বছরের প্রকৃত খরচ বরাদ্দ অর্থের অর্ধেকও ছুঁতে পারেনি। সব মিলিয়ে, শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রের ব্যর্থতা এবং ফাঁকা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের এই আক্রমণ আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিকে যে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।