‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ প্রমাণিত লাভলি খাতুনের এন্যুমারেশন ফর্ম কমিশনের পোর্টালে! SIR আবহে ফের বিতর্কে তৃণমূলের অপসারিত প্রধান

ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর আবহে ফের চর্চায় উঠে এলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের অপসারিত তৃণমূল প্রধান লাভলি খাতুন। প্রশাসনিক তদন্তে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও তাঁর এন্যুমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে লাভলি খাতুন (আসল নাম নাসিয়া শেখ) পাসপোর্ট ছাড়াই বাংলাদেশ থেকে এসে হরিশ্চন্দ্রপুরের এক যুবককে বিয়ে করেন। অভিযোগ ওঠে, তিনি স্থানীয় মুস্তাফা শেখকে নিজের বাবা দেখিয়ে ভুয়ো ভারতীয় ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড-সহ সমস্ত শংসাপত্র জোগাড় করেন। এই ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে যান।
দলে যোগ ও অপসারণ:
জয়ের পরই লাভলি খাতুন তৃণমূলে যোগ দেন এবং তাঁকে রশিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান করা হয়। পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রেহানা সুলতানা তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে অভিযুক্ত করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে এবং অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে লাভলির ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়। এর ফলে তাঁকে প্রধানের পদ ছাড়তে হয়। যদিও দল থেকে তাঁকে এখনও বহিষ্কার করা হয়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিতর্ক:
প্রশাসনিক তদন্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত লাভলি খাতুন সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় এন্যুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) ফিল-আপ করে জমা দিয়েছেন। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৩ নম্বর বুথে তাঁর এই ফর্ম কমিশনের পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে।
৫৩ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) মুজিবর রহমান স্বীকার করেন, “আমিও জানতাম, ওই মহিলা প্রশাসনিক তদন্তে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত। কিন্তু যেহেতু তাঁর নামে এন্যুমারেশন ফর্ম রয়েছে, তাই আমি তাঁকে সেটা দিতে বাধ্য। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী ফিল-আপ হওয়া ফর্ম জমা নিয়ে পোর্টালে আপলোডও করেছি। তবে গোটা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:
বিজেপি: উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য কিষাণ কেডিয়ার অভিযোগ, “এমন অনেক লাভলি খাতুন রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এরাই তৃণমূলের ভোট ব্যাংক।”
সিপিআইএম: রাজ্য কমিটির সদস্য ফিরদৌস আলমের বক্তব্য, “এ’রাজ্যে তৃণমূল আর প্রশাসনের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। এর জন্যই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র সহজে তৈরি হয়ে যায়।”
তৃণমূল: জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসির বক্তব্য, “তৃণমূল কখনও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এখানে যদি কোনও অন্যায় হয়ে থাকে প্রশাসন অবশ্যই সেটা দেখবে। এই এন্যুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করা মানেই শেষ কথা নয়। কমিশনও সেই ফর্ম খতিয়ে দেখবে।” তবে লাভলির বিরুদ্ধে দল কেন পদক্ষেপ করেনি, সেই প্রশ্নে তিনি নিরুত্তর থাকেন।
লাভলি খাতুন বা তাঁর স্বামী রবিউল ইসলাম, কেউই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।