‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’-এর ধাঁচে SIR-এর পরও শিবির! মতুয়াদের অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, আক্রমণ শান্তনু ঠাকুরকে

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেও ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির ধাঁচে শিবির খোলা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, নথি ও জাতিগত শংসাপত্রসহ সব ধরনের কাগজপত্র পেতে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়, তার দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে।
মঙ্গলবার দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-এর দ্বিতীয় ধাপকে আরও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কর্মীদের ঢিলেমি না করার নির্দেশ দেন। এর পরই মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলীয় কর্মীরা যেমন সক্রিয় থাকবে, তেমনই সমান্তরালে কাজ করবে রাজ্য প্রশাসনও।
মতুয়াদের উদ্দেশে মমতার আশ্বাস ও হুঁশিয়ারি:
মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে বলেন, “ভয় পাবেন না। কথার খেলাপ করি না। তৃণমূল থাকতে কেউ আপনাদের গায়ে হাত দিতে পারবে না।”
বিহারের উদাহরণ টেনে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ:
বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “ওরা গেম ধরতে পারেনি। কিন্তু বাংলা বিহার নয়!” তিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গ দখল করতে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিজেকে আক্রমণ করা হলে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও শোনা যায় তাঁর গলায়: “আমাকে আঘাত করলে সারা ভারত কেঁপে উঠবে। নির্বাচনের পরে দেশটা চষে বেড়াব।”
শান্তনু ঠাকুরকে নিশানা:
মতুয়া মহাসংঘের কার্ড অর্থের বিনিময়ে বিলির অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে সরাসরি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরবাড়িতে আন্দোলন চলাকালীন শান্তনুর বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “টাকা নিয়ে ফর্ম বিলি করে বিদেশে? বড় রহস্য আছে। পালিয়েছে কেন? অন্যায় করলে গ্রেপ্তারের দাবি আমরাও তুলব।”
এছাড়া, নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে যথাক্রমে ‘ইয়েস স্যার’ ও ‘ছোট স্যার’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং এত কম সময়ে ‘অপরিকল্পিত’ এসআইআর করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নতুন উন্নয়ন প্রকল্প:
দিঘায় জগন্নাথ ধাম তৈরির পর এবার নিউ টাউনে ইকোপার্কের বিপরীতে ‘দুর্গাঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতেই এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। একইসঙ্গে শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের জন্য প্রায় ২৯ একর জমিতে মন্ত্রিসভার সিলমোহর পড়ার কথাও জানান তিনি।