“বাঁচাও! বাঁচাও!” চিৎকার, কিন্তু ক্যামেরা চললই! দৌসার নৃশংস ভিডিও দেখে ফুঁসছে দেশ

রাজস্থানের দৌসা জেলার একটি বীভৎস ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, স্কুল ইউনিফর্ম পরা দুই ছাত্রীকে কয়েকজন যুবক নির্মমভাবে মারধর করছে। একটি জরাজীর্ণ কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন ও পাশবিক অত্যাচার। সবচেয়ে ভয়ের ও লজ্জার বিষয় হলো, ভুক্তভোগীরা আর্তনাদ করে সাহায্যের আকুতি জানালেও অভিযুক্তরা সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করতে ছাড়েনি। তাদের চিৎকারেও কোনো বিকার ছিল না নিষ্ঠুর ওই যুবকদের।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই সমগ্র জেলাজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে এক চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দৌসার পুলিশ সুপার (এসপি) পীযূষ দীক্ষিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসপির কঠোর নির্দেশনায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে নেমেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং তাদের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালাচ্ছে। জানা গেছে, অভিযুক্তরা আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি মামলাও রয়েছে।

তবে এই ঘটনাটি এখন একাধিক জটিল প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রথমত, এই নৃশংস অপরাধটি দুই বছর আগে ঘটা সত্ত্বেও কেন এতদিন পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ পৌঁছাল না? ভুক্তভোগীরা কি প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ বন্ধ করে রেখেছিলেন? দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি ভিডিওটি ধারণ করছিল, সে সাহায্যের বদলে কেন ক্যামেরা সচল রেখেছিল? এবং কেনই বা দুই বছর ধরে এই জঘন্য ভিডিওটি গোপন রাখা হলো এবং এখন কেন এটি ভাইরাল করা হলো—সেটিও তদন্তের বিষয়।

পুলিশ সুপার স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। তাদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পুলিশ ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। রাজস্থানের সংস্কৃতিতে যেখানে ‘গ্রামের মেয়েই সবার মেয়ে’ বলে গণ্য করা হয়, সেখানে এই ঘটনা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছে এবং খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, অপরাধীদের হাত থেকে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজকে আরও অনেক বেশি সতর্ক ও কঠোর হতে হবে।