বন্দুকের নেশা ছেড়ে এবার নতুন জীবন! পাঞ্জাব পুলিশের ‘যুবা সাঁজ’ ঝড়ে দিশেহারা গ্যাংস্টার সাম্রাজ্য

পাঞ্জাব মানেই কি কেবল বন্দুকের লড়াই আর গ্যাংস্টার কালচার? সেই কলঙ্কিত ইতিহাস মুছে দিতে এবার রণক্ষেত্র থেকে সরাসরি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নামল পাঞ্জাব পুলিশ। ‘গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ (Gangster’s Te Vaar) অভিযানের পাশাপাশি এক নিঃশব্দ বিপ্লব শুরু হয়েছে যার নাম ‘যুবা সাঁজ’। মূলত বিপথগামী ও সমাজের মূলস্রোত থেকে ছিটকে যাওয়া যুবকদের উদ্ধার করে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই এই কর্মসূচির একমাত্র লক্ষ্য।

বিশেষ মহাপরিচালক গুরপ্রীত কৌর দেও-এর নেতৃত্বে কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (সিএডি) গত জানুয়ারি মাস থেকে এই লড়াইকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। যেখানে একদিকে পুলিশি অভিযান চলছে কড়া হাতে, অন্যদিকে ‘যুবা সাঁজ’-এর মাধ্যমে চলছে কাউন্সেলিং এবং স্নেহের স্পর্শ। গত চার মাসে পাঁচটি রুদ্ধশ্বাস সংলাপ অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে, এবং আগামী আট মাসে আরও ১১টি অধিবেশনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যেই ১,৪৯০ জন যুবককে সচেতন করা সম্ভব হয়েছে এবং ১,১০৯ জন সরাসরি কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নিয়েছেন।

মহাপরিচালক গৌরব যাদব জানিয়েছেন, “পাঞ্জাব পুলিশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। অপরাধী চক্রগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য যুবকদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনা। পারিবারিক সম্পৃক্ততা ও কাঠামোগত কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আমরা তাদের জীবনের গতিপথ বদলে দিচ্ছি।” ফাজিলকার এসএসপি গুরমিত সিং-এর মতে, এই উদ্যোগ কেবল অপরাধ কমায়নি, বরং এক শক্তিশালী ও আইন মেনে চলা যুবসমাজ গঠন করেছে। পাঞ্জাব স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশনের সহায়তায় এই যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগও করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে মাদক বা বন্দুকের হাতছানি নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও সুখী জীবনই হয় তাদের ভবিতব্য।