ক্যাফেইনের নাম করে বিষ? রেড বুল-স্টিং-এর মতো পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ৯০ দিনের চরম হুঁশিয়ারি!

ক্লান্তি কাটাতে বা কাজের ফাঁকে চাঙ্গা হতে প্রায়শই কি বাজার থেকে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ কিনে পান করছেন? তবে আপনার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি ও সচেতনতামূলক খবর! উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনযুক্ত কোনো পানীয়কে আর ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ হিসেবে বাজারজাত বা প্রচার করা যাবে না। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বড় বড় পানীয় প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির আর্জি একঝটকায় খারিজ করে দিয়ে এই কড়া নির্দেশ দিয়েছে ভারতের খাদ্য নিয়ামক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSAI)

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড পেপসিকো (স্টিং), রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, রিলায়েন্স (ক্যাম্পা) ও হেল এনার্জির মতো নামী সংস্থাগুলিকে বোতল বা ক্যানের প্যাকেজিং থেকে অবিলম্বে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ শব্দবন্ধটি মুছে ফেলার জন্য ৯০ দিনের কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

“সংস্থাগুলোর অজুহাত বা আর্জি গ্রহণ করা হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে তারা আদালতে যেতে পারে।” — FSSAI-এর সিইও রজিত পুনহানি।

FSSAI-এর কড়া পদক্ষেপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি:

  • বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ: খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ভারতে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বলে আলাদা কোনো ক্যাটাগরি বা মানদণ্ড স্বীকৃত নয়। ‘শরীর-মন চাঙ্গা করে’ বা ‘ক্লান্তি দূর করে’— এ জাতীয় সমস্ত দাবিকে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

  • স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব: এফএসএসএআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এসব পানীয়তে মারাত্মক মাত্রায় ক্যাফেইন, অতিরিক্ত চিনি এবং টরিনের মতো উপাদান থাকে, যা মানবদেহের জন্য বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ ক্ষতিকর।

রাজ্যে রাজ্যে বাজেয়াপ্তকরণ ও আন্তর্জাতিক চাপ:

  • ই-কমার্স ও বাজারে নিষেধাজ্ঞা: রাজস্থানে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিঙ্কইট ও সুইগির মতো ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ তকমা দিয়ে বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজস্থানের বাজার থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে হাজার হাজার বোতল স্টিং, ক্যাম্পা ও রেড বুল।

  • বিশ্বজুড়ে কড়াকড়ি: শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ক্ষতিকারক পানীয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের কাছে এই পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পাকিস্তানে এগুলিকে কেবল ‘স্টিমুল্যান্ট ড্রিঙ্ক’ (উত্তেজক পানীয়) হিসেবে বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।