রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং বিতর্কিত নাম বিডিও শানু বক্সি। একদা ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই আধিকারিককে অবশেষে তাঁর বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় তাঁকে আপাতত ‘গ্যারেজ পোস্টিং’-এ পাঠানো হয়েছে। তাঁকে স্টেট গেজেটিয়ার্স দফতরের ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
দীর্ঘদিন ধরেই শানু বক্সিকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। বিশেষ করে জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করার অভিযোগ ঘিরে বিরোধীরা বারবার সরব হয়েছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর নিয়োগ ও কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল রাজনৈতিক মহল। তাঁর চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিকবার চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের সময় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থেকে তাঁকে সরিয়ে ফলতায় আনা হলেও, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ফের তাঁকে সরতে হয়েছিল। সবশেষে তিনি মালদহের হরিশচন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশে তাঁর পরিবর্তে ধ্রুবাশিস সামন্তকে ওই ব্লকের বিডিওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদিও সব বিতর্ক উড়িয়ে শানু বক্সি বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চ্যাটের ভাইরাল স্ক্রিনশট প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “ওটা আমার চ্যাট কি না, তা প্রমাণ করতে হবে। এআই-এর যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অনেক কিছুই করা সম্ভব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।” নিজের নিয়োগ সম্পর্কে তিনি দাবি করেছিলেন, সমস্ত নিয়ম মেনে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তিনি এই সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।
শুধু শানু বক্সিই নন, রদবদলের তালিকায় নাম রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারেরও। তাঁকেও একইভাবে স্টেট গেজেটিয়ার্স-এর ওএসডি পদে বদলি করা হয়েছে এবং তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন গার্গী দাস। প্রশাসনের অন্দরে এই ব্যাপক রদবদলকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচনের আগে ব্লকের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজাতেই এই বদলি কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। বিডিও পদ থেকে অপসারণের পর শানু বক্সির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





