বঙ্গোপসাগরে ৩,৫৫০ কিমি জুড়ে ভারতের NOTAM! পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা? সিঁদুরের পর ফের তোলপাড়

সামরিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ভারত ক্রমাগত তাদের গতি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি, ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৩,৫৫০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ (NOTAM) হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত। এই ঘোষণার পরেই পাকিস্তানে একাধিক শহরে লকডাউন জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের NOTAM: অগ্নি-সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঙ্গিত?
‘অপারেশন সিঁদুরের’ পর থেকে ভারত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিয়েছে। এর আগেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। ফের একবার NOTAM এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি জারির ফলে বঙ্গোপসাগরকে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশ ও সমুদ্রপথে যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই NOTAM একটি দূরপাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, NOTAM-এ উল্লিখিত রেঞ্জটি সাধারণত ভারতের অগ্নি সিরিজের (Agni) ক্ষেপণাস্ত্র অথবা হাইপারসনিক ভেহিকেলের পরীক্ষার সময় ব্যবহৃত হয়। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই পরীক্ষাটি হয়তো নতুন কোনও পুনঃপ্রবেশ প্রযুক্তি বা নির্দেশিকা ব্যবস্থার হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থান হিসেবে ওড়িশার ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ-কেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের ঘোষণার পরই পাকিস্তানে লকডাউন:
ভারতের এই সামরিক ঘোষণার পরপরই পাকিস্তান সরকার তাদের একাধিক শহরে লকডাউন ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই লকডাউন জারি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল্পনা শুরু হলেও, পাকিস্তান সরকার এর ভিন্ন কারণ দাবি করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উগ্রপন্থী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-লাব্বাইক (টিএলপি) গাজা চুক্তির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় মিছিল করার হুমকি দিয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই সরকার এই এলাকাগুলিতে লকডাউন ঘোষণা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পরীক্ষার পরই পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।