ফের বড় ধাক্কা আপ শিবিরে! দিল্লির জল বোর্ড দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন।

ফের গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র কুমার জৈন। দিল্লি জল বোর্ডের (ডিজেবি) দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) দিল্লিতে দুর্নীতির এই মামলায় সত্যেন্দ্র জৈন-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
দিল্লি জল বোর্ডের শোধনাগারের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং আধুনিকীকরণে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এসিবি এই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী, শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মালিক ও প্রতিনিধিরা। প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র কুমার জৈন, দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রায়, প্রাক্তন পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব, এএন এন্টারপ্রাইজের নাগেন্দ্র যাদব, ইউরোটেক এনভায়রনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক রাজা কুমার এবং সৃজনহরের পঙ্কজ বর্মা। এসিবি প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
জানা গিয়েছে, ভিজিল্যান্স ডিরেক্টরেটের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। সেখানেই দেখা যায় দিল্লি জল বোর্ডের এসটিপি প্রকল্পের টেন্ডারে ব্যাপকভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল। মুষ্টিমেয় কিছু লোককে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য টেন্ডারের শর্তাবলীতে কারসাজি করার ষড়যন্ত্রও করা হয়েছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং শর্তাবলী যুক্ত করা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরবরাহকারীকে সুবিধা দিয়েছিল। প্রকল্পের অধীনে প্রস্তাবিত পাইলট প্রজেক্ট না করেই তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এছাড়াও, ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও মাধ্যম সম্পর্কে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছিল এবং পরিশোধিত জলের জন্য বেশ কিছু অপরিহার্য মানদণ্ড টেন্ডার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এসিবি-র প্রযুক্তিগত তদন্ত এবং ইলেকট্রনিক প্রমাণের বিশ্লেষণে বেসরকারি ব্যক্তি ও সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে একটি গভীর আঁতাতও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ টেন্ডারের শর্তাবলী, সংশোধনী এবং অন্যান্য গোপনীয় নথি বিনিময় করা হয়েছিল, যা পরে ওয়াটার বোর্ড কর্তৃক জারি করা এসটিপি প্রকল্পের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি, সরকারি আধিকারিকরা বেসরকারি সংস্থাগুলির নির্দেশে টেন্ডারের শর্তাবলীকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবিত করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। দেড় কোটি টাকারও বেশি ঘুষ এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি জল বোর্ডের তৎকালীন সিইও উদিত প্রকাশ রায় ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে তাঁর এবং তাঁর আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১.৫২ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। এই ঘুষের টাকা মেসার্স ইউরোটেক এবং মধ্যস্থতাকারী মেসার্স এএন এন্টারপ্রাইজেস ও মেসার্স সৃজনহরের মাধ্যমে গিয়েছিল বলে খবর। এসিবির শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি এবং সন্দেহভাজন দালালদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।