অবশেষে ফাঁসির দড়ির দিকে এক পা! ভারতে প্রথমবার অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে শুরু হচ্ছে ২৬/১১ মুম্বাই হামলার বিচার

ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের মাটিতে এই প্রথমবার কোনো আসামির শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের নৃশংস ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তথা পাকিস্তানি সন্ত্রাসী নেতা হাফিজ সঈদ এবং তার ছয় কুখ্যাত সহযোগীর বিরুদ্ধে এবার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য শুরু হতে চলেছে। ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ বা BNSS-এর বিধান অনুযায়ী এই বিচার পরিচালিত হবে। অতীতে আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত আদালতে সশরীরে হাজির না হলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব ছিল না, যার সুযোগ নিয়ে বহু দাগী অপরাধী ও ষড়যন্ত্রকারী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেত। কিন্তু আইনি সংস্কারের ফলে পলাতক সন্ত্রাসবাদীদের টিকি ছুঁতে এবার আর কোনো বাধা রইল না।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত অভিযুক্তের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও, নতুন আইনের ৩৫৬ ধারার অধীনে বড়সড় অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, আদালত প্রথমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর পর প্রধান সংবাদপত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে জনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নির্দিষ্ট ৯০ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত আদালতে হাজিরা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পলাতক ঘোষণা করে তার অনুপস্থিতিতেই সাক্ষ্যপ্রমাণ, বৈজ্ঞানিক দলিল ও ডিজিটাল রেকর্ডের ভিত্তিতে বিচারকার্য চালানো হয়। এমনকি দোষী সাব্যস্ত হলে চূড়ান্ত দণ্ডাদেশ ঘোষণা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সংস্থান রয়েছে। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোমা হামলায় দাউদ ইব্রাহিম বা টাইগার মেমনের মতো পলাতকদের ক্ষেত্রে অতীতে কেবল সাক্ষ্য রেকর্ডের সুযোগ থাকলেও, নতুন আইনে এবার সরাসরি চূড়ান্ত রায় ও সাজা ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের লড়াইয়ে ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপ এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। পাকিস্তানের মাটিতে বসে যারা ভারতের সুরক্ষায় আঘাত হেনেছে, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য বারবার পাকিস্তান গড়িমসি করলেও এই অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড কর্নার নোটিশ জারির পথকে আরও প্রশস্ত করবে। আদালতের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ার পর বিশ্বমঞ্চে ভারতের আইনি অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাবে। সন্ত্রাস ও সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে ভারত যে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না, এই যুগান্তকারী বিচার প্রক্রিয়া তারই এক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিল।