রাখি খোলার সঠিক নিয়ম জানেন কি? না জানলে অজান্তেই হতে পারে মারাত্মক অমঙ্গল!

রক্ষা বন্ধন উৎসব কেবল ভাই ও বোনের পবিত্র সম্পর্কের বাঁধনই নয়, এটি পারস্পরিক স্নেহ, ভালোবাসা এবং অটুট সুরক্ষার এক অনন্য প্রতীক। হিন্দু সনাতন ধর্মানুসারে, শ্রাবণ পূর্ণিমার এই শুভ তিথিতে বোনেরা তাদের ভাইয়ের কব্জিতে রাখি বেঁধে দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং ভাইয়েরাও আজীবন তাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৬ সালে আগামী ২৮শে আগস্ট শুক্রবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হতে চলেছে এই পবিত্র উৎসব। তবে উৎসব শেষ হওয়ার পরেই অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়—তাঁদের কব্জিতে বাঁধা রাখিটি আসলে কতদিন রাখা উচিত এবং এটি খোলার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি কী? শাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাখি কেবল একটি সাধারণ সুতো নয়, একে পবিত্র রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এটি খোলার এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

শাস্ত্রীয় বিধান ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথি ২৭ আগস্ট সকাল ৯:০৯ মিনিটে শুরু হয়ে ২৮ আগস্ট সকাল ৯:৪৮ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। উদয় তিথি অনুসারে ২৮ আগস্টই মূল উৎসব উদযাপিত হবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, রাখি পরার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা বা এক দিন তা কব্জিতে রাখা অত্যন্ত শুভ। তবে বিভিন্ন পারিবারিক ও আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত রাখি পরে থাকার প্রথা রয়েছে। আবার এমন অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে জন্মাষ্টমীর পবিত্র দিন পর্যন্ত কব্জিতে রাখি পরে থাকার বিধান মানা হয়। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর দিন পুজো সমাপ্ত হওয়ার পর এই রাখি খোলার বিশেষ রীতি প্রচলিত আছে, যা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়।

তবে রাখি খোলার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভুলেও এই পবিত্র সুতোটিকে সাধারণ জঞ্জাল বা ময়লার ঝুড়িতে ফেলা উচিত নয়। রাখি খোলার আগে অবশ্যই স্নান সেরে শুদ্ধ হয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করতে হবে এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তা খুলতে হবে। আপনি যদি স্মৃতি হিসেবে রাখিটি সংরক্ষণ করতে চান, তবে একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ে মুড়ে ঘরের পুজোর স্থানে বা কোনো পবিত্র বাক্সে রেখে দিতে পারেন। আর যদি তা বিসর্জন দিতে চান, তবে প্রবহমান জল বা নদীর জলে তা সম্মানের সঙ্গে বিসর্জন দেওয়াই শ্রেয়। অজানabili বা ভুলবশত অবহেলায় রাখি ডাস্টবিনে ফেলে দিলে ধর্মীয় মতে অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে। তাই ভাই-বোনের এই পবিত্র বন্ধনের মান রক্ষা করতে এবং অশুভ শক্তি থেকে দূরে থাকতে সঠিক নিয়ম মেনে রাখি খোলা ও বিসর্জন দেওয়া প্রতিটি মানুষেরই কর্তব্য।