ফের তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল, জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্য। জমি কেলেঙ্কারি এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুজয় হাজরা। দীর্ঘদিনের লুকোচুরি শেষে শনিবার গভীর রাতে খড়গপুর স্টেশন থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাঁকে শালবনি থানায় নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়।

জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, সুজয় হাজরার গতিবিধির ওপর দীর্ঘ দিন ধরেই নজর রাখছিল পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জমি মাফিয়াদের সাথে আঁতাত এবং তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিশদ তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ প্রশাসন।

এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর কুমার গুছাইত বলেন, “আইন আইনের পথে চলছে। মেদিনীপুরের মানুষ জানেন সুজয় হাজরার কর্মকাণ্ড কেমন ছিল। ভুক্তভোগী মানুষ যাতে সুবিচার পান, সেটাই আমাদের দাবি।”

প্রসঙ্গত, সুজয় হাজরা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৃণমূলের জেলা সংগঠন পুনর্গঠনের আগে পর্যন্ত তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজেপির শঙ্কর কুমার গুছাইতের কাছে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কেশিয়াড়ির জেলা পরিষদ সদস্য কল্পনা শিটকে বালি মাফিয়াদের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্মী শিট, উত্তম সাউ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় স্তরের নেতাদের গ্রেফতারিতে অস্বস্তি বাড়ছে শাসক শিবিরে। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy