বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ আবহে বড়সড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর প্রার্থীপদ খারিজের দাবি জানিয়ে যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল, তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীর আর্জি নাকচ করে দিয়েছে। এর পাশাপাশি খড়দহ থানার একটি এফআইআর মামলাতেও ১২ সপ্তাহের রক্ষাকবচ পেয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, শুভেন্দু অধিকারী একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হয়েও গত ৩ এপ্রিল ভবানীপুর এবং মেদিনীপুরে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। অভিযোগনামায় বলা হয়, শুভেন্দু “ধর্মনিরপেক্ষতা নিপাত যাক, নাস্তিকতা নিপাত যাক”-এর মতো স্লোগান তুলেছেন। শুধু তাই নয়, ‘আমি হিন্দুদের এমএলএ, হিন্দুরাই আমাকে নির্বাচিত করেছে’— শুভেন্দুর এই বয়ান নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী বলে দাবি করেছিলেন মামলাকারী। এই যুক্তিতেই তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের আর্জি জানানো হয়।
তবে আদালতের শুনানিতে মামলার ভিত নড়ে যায় প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে। বেঞ্চ জানতে চায়, সংবিধানের ঠিক কোন ধারা অনুযায়ী একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে? মামলাকারীর আইনজীবীরা এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে না পারায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। আইনজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত আইনি তথ্যের অভাবেই এই জনস্বার্থ মামলা ধোপে টিকল না।
অন্যদিকে, খড়দহ থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর মামলাতেও সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন শুভেন্দু। বিচারপতি অজয় মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। জুলাই মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। নির্বাচনের মুখেই আদালতের এই জোড়া নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াইকে আরও অক্সিজেন দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





