প্রাথমিক টেট ২০২৩-এর ফলে নজিরবিহীন বিপর্যয়, পাশের হার মাত্র ২.৪ শতাংশ, হতাশ প্রায় ৯৮% পরীক্ষার্থী

দীর্ঘ এক বছর নয় মাস অপেক্ষার পর অবশেষে প্রকাশিত হলো ২০২৩ সালের প্রাথমিক টেট (Primary TET) পরীক্ষার ফলাফল। দুর্গাপূজার ঠিক মুখে বুধবার ফল প্রকাশিত হলেও, তা কার্যত নজিরবিহীন বিপর্যয় হিসেবে উঠে এসেছে। এই বছরের প্রাথমিক টেট-এ পাশের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৪ শতাংশ।

৩ লাখের মধ্যে পাশ করলেন মাত্র ৬,৭৫৪ জন
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন মাত্র ৬ হাজার ৭৫৪ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৯৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৯০ নম্বর (সাধারণ ক্যাটাগরির জন্য) পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পাশের হার এত কম হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে পর্ষদ জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা যে মানদণ্ডে পরীক্ষা দিয়েছেন, তার ফলের নিরিখেই এমন হার হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিদারুণ ফল রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিয়োগ জট না কাটতেই নতুন চিন্তা
২০২৩ সালের টেট ফল প্রকাশের আগেই ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণরা এখনও নিয়োগের দাবিতে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা নিয়ে যখন প্রশ্নচিহ্ন, তখনই নতুন করে ২০২৩ সালের এই হতাশাজনক ফল সামনে এল।

এই ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় চিন্তা তৈরি হয়েছে কর্মরত শিক্ষকদের নিয়েও। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে রাজ্যের প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে যাঁরা এখনও টেট পাশ করেননি (সংখ্যায় প্রায় ৫০ হাজার), তাঁদেরও বাধ্যতামূলকভাবে টেট পাশ করতে হবে। নতুন প্রার্থীদের যদি এমন ফল হয়, তবে কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষায় কী ফলাফল হবে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্যের শিক্ষামহলে।

পরীক্ষার্থীরা বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পর্ষদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল দেখতে পাচ্ছেন। এছাড়া, আগামী কাল দুপুর ২টো থেকে OMR শিটের ডিজিটাল কপিও ডাউনলোড করা যাবে।