প্রশ্রাব করার অনুমতি না দেওয়ায় ৮ বছরের শিশুকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার শিক্ষিকার, বরখাস্ত হলেন প্রিন্সিপালও

সামান্য বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় এক ৮ বছর বয়সী শিশুকে বেধড়ক মারধর ও চরম অপমান করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের সরগুজা জেলার সিতাপুরের একটি পাবলিক স্কুলে। নির্মম এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং স্কুলের প্রিন্সিপালকেও অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীটির পরিবার জানিয়েছে, ক্লাস চলাকালীন সে শিক্ষিকা নম্রতা সিংয়ের কাছে বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষিকা তাকে অনুমতি না দিয়ে উল্টো লাঠি দিয়ে পায়ে মারতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, শিশুটিকে ১০০ বার কান ধরে ওঠবোস করার জন্য বাধ্য করা হয়। অভিযোগ, এই সময়ও তার পায়ে অনবরত মারা হয়েছিল। মারের চোটে শিশুটি এখন ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।
প্রথমেই পরিবার স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। বাধ্য হয়ে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন।
সরকারের কড়া পদক্ষেপ
পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর নড়েচড়ে বসে স্কুল শিক্ষা দফতর। সরগুজা জেলার শিক্ষা অফিসার (DEO) দিনেশ ঝা অভিযুক্ত শিক্ষিকা এবং প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখেন। এর পরেই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয় এবং অসহযোগিতার জন্য প্রিন্সিপালকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
দিনেশ ঝা জানিয়েছেন, “ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এই ঘটনাটি আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।