জাভেদ আখতারের সফর বাতিল, মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব অপর্ণা সেন, ‘ধর্মীয় ভাষার’ তকমা নিয়ে প্রশ্ন

জাভেদ আখতারের কলকাতা সফর বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন। মৌলবাদীদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একজন নাস্তিককে শুধু তার বিশ্বাসের কারণে বয়কট করা হবে?
উর্দু কি শুধু একটি ধর্মীয় ভাষা?
জাভেদ আখতারের কলকাতা সফর বাতিল হয়েছিল কারণ তিনি নিজেকে ‘নাস্তিক’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, যার ফলে মৌলবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়। অপর্ণা সেন বলেন, উর্দু আকাদেমির এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা উর্দু ভাষাকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে সুপ্রিম কোর্টও তাদের রায়ে স্পষ্ট করে বলেছিল যে উর্দু কোনো ধর্মীয় ভাষা নয়।
তাসলিমা নাসরিনের কড়া মন্তব্য
এই ঘটনার পর বিতর্কিত সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রুচিশীল, মুক্তমনা ও প্রগতিশীল মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই। নিজের এই অভিযোগের সমর্থনে তিনি তিনটি উদাহরণ তুলে ধরেন:
বেগম রোকেয়া: ১৯৩২ সালে বেগম রোকেয়ার মৃত্যুর পর কলকাতার মুসলিম মৌলবাদীরা তাকে কোনো কবরস্থানে স্থান দেয়নি। একজন নারীবাদী লেখক ও নারীশিক্ষার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হওয়া সত্ত্বেও তাকে লোকচক্ষুর আড়ালে সোদপুরের পানিহাটি গ্রামে কবর দেওয়া হয়।
তাসলিমা নাসরিন: ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার তাকে কলকাতা থেকে রাজ্যছাড়া করে। সরকার বদল হলেও এখনও তাকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
সালমান রুশদি: ২০১৩ সালে প্রগতিশীল নাস্তিক লেখক সালমান রুশদিকেও কলকাতা সাহিত্য উৎসবে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়।
এই ঘটনাগুলি আবারও প্রমাণ করে যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং মৌলবাদ কীভাবে শিল্প ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার পথ বন্ধ করে দেয়।