প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে মোদীর চরম মাস্টারস্ট্রোক! মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসছে আরও কঠোর আইনের প্রস্তাব!

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান জালিয়াতি-বিরোধী আইনকে আরও কঠোর ও কড়া করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও বার্তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নতুন ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের খবর সামনে এসেছে। সূত্রগুলির দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪’ বা ‘পাবলিক পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪’-এর সংশোধনী খসড়া তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে। আজ শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলির খসড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য দেশজুড়ে বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত’ (Fast-Track Court) গঠনের বিধানও এই নতুন সংশোধিত আইনে যুক্ত করা হতে পারে। প্রস্তাবিত কঠোর বিধানগুলির ফলে দোষীদের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার শর্তাবলী আরও কঠিন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান বলবৎ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ বছরের জেলের মেয়াদ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার সংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি, সম্ভাব্য কোনো অপরাধের বিষয়ে সঠিক সময়ে তথ্য লুকোলে বা রিপোর্ট না করলে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ কোটি টাকা জরিমানার মতো কঠোর বিধান রয়েছে। আজকের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন মেলার পর আগামী সোমবারই লোকসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে দাবি করেছিলেন যে, বিগত ১০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এবং তার একটিটিতেও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা যায়নি। ঠিক তার পরেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে শুক্রবারই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দিল্লি হাইকোর্ট কর্তৃক এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী এই বার্তাটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শেয়ার করেছিলেন। একদিনের ব্যবধানে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও জীবনধ্বংসী এক সংকট। এই সমস্যা সমাধানে গত আড়াই মাসে একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরে জেলের সিটকে পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল শিক্ষার্থীদের একটি মূল্যবান বছরও যাতে নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করা। অন্তত ২২ লাখ শিক্ষার্থীর নির্বিঘ্ন পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সরকারি আমলারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে এ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রস্তুত করেছেন। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহের অধিবেশনে এই কঠোর বিলটি যত দ্রুত সম্ভব পাশ করানোর সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।