বলিউডের সুরের বাজারে বিরাট বিস্ফোরণ! কার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এক হাত নিলেন জনপ্রিয় সুরকার অমল মালিক?

বলিউড সঙ্গীত জগতের অন্দরে নতুন করে এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মৌলিক গান বনাম রিমেক সংস্কৃতির বিতর্ক এবার চরম আকার ধারণ করেছে, যখন জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক অমল মালিক সরাসরি ফুঁসে উঠেছেন। সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি কারও নাম না নিলেও তাঁর এই আক্রমণ যে ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সফল ‘রিমিক্স ম্যান’ তনিষ্ক বাগচীর দিকেই, তা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় রীতিমতো ঝড় বইছে। দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অমল এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে তনিষ্ককে একের পর এক গুরুতর অভিযোগে বিঁধেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে বিনোদন জগতের অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে অমল সরাসরি সম্বোধন করেছেন, “প্রিয় মিস্টার রিমিক্স এবং মৌলিক গানের ধ্বংসকারী”। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন যে প্রায় ১০ বছর দেরি হয়ে গেলেও এবার তিনি বিশ্বের সামনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আসল মুখোশ খুলে দেবেন। সামনাসামনি ভাই বলে ডেকে আড়ালে অন্য রাজনীতি করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। অমলের সাফ দাবি, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পর আর ওই ব্যক্তির নাম মুখে আনতে চান না তিনি। তাঁর অভিযোগের তালিকায় সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় ছবি ‘সাইয়ারা’-র টাইটেল ট্র্যাকটি। আসল স্রষ্টা ফহীম আবদুল্লা ও আরসালান নিজামির কাছ থেকে যেভাবে এই গানটি কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অমল। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন যে শীঘ্রই প্রকাশিত হতে চলা ‘সইয়াঁ মেরে’ গানটি সামনে এলেই সবাই বুঝতে পারবেন যে আসল মেহনত ও কৃতিত্ব কার।
শুধু তাই নয়, তনিষ্ক বাগচীর তৈরি একাধিক হিট মৌলিক গানকে সরাসরি ‘নকল’ বলে কটাক্ষ করেছেন অমল। তাঁর দাবি, ওই গানগুলির সুর নাকি পাকিস্তানি গান, অন্য কোনো সুরকারের সৃষ্টি, লোকসঙ্গীত কিংবা ইউটিউব কভার থেকে নির্লজ্জভাবে টোকা হয়েছে। এমনকি মহিলা গায়িকাদের সঙ্গে তনিষ্কের অপেশাদার আচরণ নিয়েও বেশ কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন এই জনপ্রিয় সুরকার। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি; মিউজিক লেবেলের থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে পেইড পিআর (Paid PR) বা ভুয়ো প্রচার চালানোর মাধ্যমে নিজেকে বড় দেখানোর প্রবণতাকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। নিজের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো প্রমোশন বন্ধ করার হুঙ্কার দিয়ে অমল তাঁর দীর্ঘ পোস্টে অত্যন্ত কড়া ভাষায় লেখেন, “আমার সঙ্গে লাগতে এস না। এটা আমার জঙ্গল, আর এখানে সিংহ যখন শিকার করে তখন কিচ্ছু অবশিষ্ট রাখে না”।
অমল মালিকের এই তীব্র বিষোদগার ও প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের পরও তনিষ্ক বাগচীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তিনি সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন। হঠাৎ কেন অমল এমন আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করলেন এবং এর পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। বলিউডের সুরের আঙিনায় মৌলিক সৃষ্টি বনাম রিমেকের এই পুরনো লড়াই এবার কোন নতুন মোড় নেয় এবং এর জেরে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।