‘প্রমাণপত্র নেই, বাড়িও ফেরা সম্ভব নয়’-সোনাগাছিতে বাড়ছে SIR-এর আতঙ্ক!

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ যৌনপল্লী কলকাতার সোনাগাছি এখন এক নতুন আতঙ্কের ছায়ায়। রাজ্য জুড়ে চলা ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিশেষ উদ্যোগ, অর্থাৎ এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন বহু যৌনকর্মী। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যে ভোটাধিকার তাঁরা অর্জন করেছিলেন, এবার সেই নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

😥 ‘প্রমাণপত্র নেই, বাড়িও ফেরা সম্ভব নয়’

যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি জানিয়েছে, সোনাগাছির বহু মহিলা দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পেটের টানে এখানে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই বহু বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। ফলে তাঁদের হাতে জন্মসনদ, বাসস্থান বা নাগরিকত্বের কোনো বৈধ প্রমাণপত্র নেই। এই পরিস্থিতিতে SIR যাচাই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুর্বারের সম্পাদক বিশাখা লস্কর এই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,

“যাদের আর বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়, বা যাদের কোনও প্রমাণপত্র নেই, তাদের নাম মুছে যাওয়ার ভয় রয়েছে। ২০০২ সালে প্রথম এখানে ভোটার কার্ড হয়েছিল। এখন সেইসব নাম নিয়েই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছি।”

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগ

এই উদ্বেগের পাশাপাশি সোনাগাছিকে ঘিরে উঠে আসছে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ— বাংলাদেশি যৌনকর্মীদের অবৈধ উপস্থিতি। সূত্রের দাবি, প্রতি বছরই সীমান্ত পেরিয়ে কিছু মহিলা অবৈধভাবে এপারে এসে যৌনপল্লীতে কাজ শুরু করেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকে নকল পরিচয়পত্রও তৈরি করে নিয়েছেন।

  • দুর্বারের অবস্থান: বিশাখা লস্কর এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি কেউ বাংলাদেশ থেকে লুকিয়ে এসে থাকে, সেটা প্রশাসনের দেখা উচিত। আমরা কোনওভাবেই এটা সমর্থন করি না।”
  • আইনজীবীর মত: যৌনকর্মীদের সন্তানদের সংগঠন ‘আমরা পদাতিক’-এর তরফে আইনজীবী মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “যারা বহু বছর ধরে এখানে রয়েছেন, তাঁদের কাছে সব বৈধ নথি রয়েছে। তবে বসিরহাট বা বনগাঁর মতো সীমান্ত এলাকার যেসব মেয়ে কাজের জন্য এখানে আসে, তাঁদের ভুল করে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে না তো, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।” তাঁর দাবি, অবৈধভাবে প্রবেশের বিষয়টি প্রশাসনেরই দেখা উচিত।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই সোনাগাছিতে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক এবং বিদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগের চাপানউতোর বাড়তে থাকায় এই অঞ্চলের সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।