পোষ্য কুকুরের প্রস্রাব কেন্দ্র করে ভয়াবহ রক্তপাত! অটোয় বসে থাকা যুবকের নির্মম খুন ঘিরে চাঞ্চল্য

পোষ্য কুকুরের প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বচসা শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক ও রক্তাক্ত পরিণতিতে রূপ নিল। অটোর পাশে পোষ্য কুকুরের প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে নৃশংস ছুরিকাঘাতে গিয়ে ঠেকে। এই ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত হিংসাত্মক ঘটনায় মাত্র ২৩ বছর বয়সী এক তরতাজা যুবকের করুণ মৃত্যুর সংবাদে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ওই যুবকের নাম উন্দেতি শ্রীনাথ, যিনি পেশাগতভাবে সাজসজ্জা বা ডেকোরেশনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ অগস্ট রাতে। ওই দিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ শ্রীনাথ তাঁর বন্ধু ভীরেশের সঙ্গে একটি অটোয় বসে খোশগল্প করছিলেন। সেই সময় এলাকারই এক বাসিন্দা, ২৮ বছর বয়সি ভেমুলা মধু নিজের পোষ্য কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে প্রাতঃভ্রমণ বা এমনি বের হয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, শ্রীনাথের বসে থাকা অটোর ঠিক পাশেই কুকুরটি প্রস্রাব করে এবং সঙ্গে সঙ্গে শ্রীনাথ ও তাঁর বন্ধু ভীরেশের দিকে তেড়ে গিয়ে জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে।

এই আচরণকে কেন্দ্র করে শ্রীনাথ ও মধুর মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক কথামাকাটি দ্রুত উত্তপ্ত বাদানুবাদে রূপ নিলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, এর পরই শ্রীনাথ ও তাঁর বন্ধু ভীরেশ রাগের বশে মধুর বাড়ির ঠিক সামনে গিয়ে হাজির হন। সেখানে গিয়ে পুনরায় তাঁদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে লাঠিপেটা ও হাতাহাতির রূপ নেয়।

পরিস্থিতি চরমে উঠলে অভিযুক্ত মধু বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার বদলে আচমকা ঘরের ভিতর দৌড়ে প্রবেশ করেন এবং একটি ধারালো সবজি কাটার ছুরি হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এরপর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ওই ছুরি দিয়ে তিনি শ্রীনাথের শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি আক্রমণ ও একাধিক আঘাত হানেন। আচমকা এই প্রাণঘাতী হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হন শ্রীনাথ। রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তিনি পাশের একটি নিকাশি নালার কাছে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর জখম শ্রীনাথকে উদ্ধার করেন এবং তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে। অভিযুক্ত মধুকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঠিক কী কারণে সামান্য একটি বচসা এতখানি ভয়াবহ আকার ধারণ করল, হামলার ঠিক আগে এবং পরে কোন কোন নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি, এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না বা নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।