পেট্রোল-সিএনজি নিষিদ্ধ হতেই যুগান্তকারী পদক্ষেপ! বাজারে আসছে বাজাজের প্রথম ইলেকট্রিক বাইক, জানুন কবে থেকে মিলবে

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ও অন্যতম জনপ্রিয় দুই-চাকার যান প্রস্তুতকারক সংস্থা বাজাজ অটো এবার ইলেকট্রিক মোবিলিটি খাতে নিজেদের সুদৃঢ় উপস্থিতি আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, তাদের বহু প্রতীক্ষিত ও দীর্ঘচর্চিত প্রথম গণ-বাজারের ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলটি আগামী ২০২৮ অর্থবর্ষের (FY28) মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজাজ সেই সমস্ত ঐতিহ্যবাহী শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির প্রথম সারিতে যুক্ত হতে চলেছে, যারা প্রথাগত জ্বালানি ছেড়ে ভবিষ্যতের ইভি বাইক বিভাগে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে।
কোম্পানির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) দীনেশ থাপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলটির গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। সবকিছু যদি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক পথে এগোয়, তবে ২০২৮ অর্থবর্ষের মধ্যেই এটি বাজারে নামানো সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অভাবনীয় মডেলটি প্রথমে আন্তর্জাতিক বা বিদেশি বাজারে উন্মুক্ত করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি সাধারণ ভারতীয় গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্যও উপলব্ধ করা হবে।
বাজাজ শুধু একটি নির্দিষ্ট ইলেকট্রিক বাইকের মধ্যেই নিজেদের ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ। কোম্পানিটি অত্যন্ত দূরদর্শীভাবে ভবিষ্যতের ইলেকট্রিক স্কুটার, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এবং বহুমুখী ই-রিকশার মতো আধুনিক পণ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তাদের সামগ্রিক ইলেকট্রিক পোর্টফোলিওকে আরও ব্যাপক আকারে প্রসারিত করছে। বিশেষ করে, রাজধানী দিল্লির প্রস্তাবিত নতুন ইভি পলিসি ২.০ অনুযায়ী ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন পেট্রোল এবং সিএনজি চালিত দুই-চাকার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমন এক অত্যন্ত সংকটজনক ও পরিবর্তনশীল সময়ে বাজাজের এই ইলেকট্রিক বাইক লঞ্চ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বাজারের ক্রমবর্ধমান বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে কোম্পানিটি তাদের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতাও নজিরবিহীনভাবে বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজাজের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো তাদের মোট উৎপাদন ক্ষমতা সরাসরি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হবে এবং পরবর্তীতে চলতি অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ আরও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী মোটরসাইকেল উৎপাদনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক যানবাহন এবং সর্বাধুনিক বৈদ্যুতিক যানবাহন—এই তিনটি প্রধান বিভাগই সমভাবে লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাজাজের অত্যন্ত জনপ্রিয় ইলেকট্রিক স্কুটার ‘চেতক’-এর উৎপাদন ক্ষমতাও প্রতি মাসে বর্তমানের ৫০,০০০ ইউনিট থেকে সফলভাবে বাড়িয়ে ৬০,০০০ ইউনিটে উন্নীত করার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক গাড়ির মাসিক উৎপাদন ক্ষমতাও প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। সংস্থার আর্থিক পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানও অত্যন্ত তাক লাগানোর মতো। বাজাজ অটো চলতি ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে তাদের অবিশ্বাস্য ও শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। কোম্পানির সমন্বিত নীট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বাতিয়ে লাফিয়ে বেড়ে সরাসরি ৩,২২৫.৬৩ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির সার্বিক দুই চাকার গাড়ির বিক্রিও ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬,৩৪,০০০ ইউনিটের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। কোম্পানি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানিয়েছে যে তাদের নিজস্ব ইলেকট্রিক ভেহিকল বা ইভি ব্যবসা বর্তমানে পুরোপুরি লাভজনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। আগামী দিনে তারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ১২৫সিসি থেকে ১৬০সিসি মোটরসাইকেল সেগমেন্টে আরও একধিক নতুন অত্যাধুনিক মডেল ও আকর্ষণীয় আপডেট বাজারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।