উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর জেলা সম্প্রতি এক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল। গ্যাংস্টার কমলেশ চৌধুরী ওরফে কমলেশ বিন্ডের এনকাউন্টারের পর তাঁর মরদেহ ঘিরে যে হিংসাত্মক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়, তার জেরে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজন নামজাপসহ প্রায় ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোতোয়ালি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে মৃতদেহ রেখে যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ পুলিশ বিভাগ।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা জুন। সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিট নাগাদ কমলেশের মৃতদেহ স্থানীয় প্রধান সড়কে রাখা হয় এবং প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলে লাগাতার বিক্ষোভ। এই সময়ে জাতীয় সড়ক পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ করা হলেও বিক্ষোভকারীরা তাতে কর্ণপাত করেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা উগ্র হয়ে ওঠে। তারা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে কোতোয়ালি থানায় সাব-ইন্সপেক্টর রাম মিলন যাদব একটি এফআইআর দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, হামলা এবং জনশান্তি ভঙ্গের মতো জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
গাজিপুরের পুলিশ সুপার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, “আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী এবং পুলিশের ওপর হামলাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।” ইতিমধ্যে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সাক্ষীদের বয়ানও নেওয়া হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করার পর তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। প্রয়োজনে কঠোরতম এনএসএ (NSA) আইনের আওতায় অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাটি এখন পুরোপুরি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। গাজিপুর প্রশাসনের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এক বিশেষ বার্তা দিল—মৃতদেহ নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিক্ষোভ বা পুলিশের ওপর হামলা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রতিটি মোড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।





