পুরসভার আবাসনেই অবৈধ নির্মাণ! ইংরেজবাজার পুরসভার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বাসিন্দাদের, তুঙ্গে বিতর্ক

রাজ্যে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযানের আবহে মালদা শহরে দেখা দিল বিপরীত চিত্র। তৃণমূল পরিচালিত ইংরেজবাজার পুরসভার বিরুদ্ধেই পুরসভার নিজস্ব আবাসনের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে অবৈধ নির্মাণকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ফের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

ঠিক কী অভিযোগ? ঘটনাটি ইংরেজবাজার পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানী মোড় এলাকার ‘সুভাষপল্লি মিউনিসিপ্যাল আবাসন’-এর। ২০০৪ সালে তৈরি এই আবাসনের যাতায়াতের জন্য ১০ ফুট চওড়া রাস্তা ছিল। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে সেই রাস্তার ওপর ধাপে ধাপে অবৈধভাবে কংক্রিটের দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। এক সময় সেখানে পুরসভার ‘মা ক্যান্টিন’ খোলা হলেও বর্তমানে তা ব্যক্তিগত ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই নির্মাণের ফলে হাইড্রেন, সেপটিক ট্যাঙ্কের রিজার্ভার এবং হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে জলনিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন তাঁরা।

কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানের অবস্থানে ধোঁয়াশা: স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর প্রকারান্তরে এই নির্মাণকে অবৈধ বলে মেনে নিলেও, পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরসভার চেয়ারম্যানের দাবি, “বাসিন্দারা আদালতের নির্দেশিকা নিয়ে এলে আমরা ওই নির্মাণ ভেঙে দেব।” তবে কেন পুরসভা নিজে থেকে এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।

প্রশাসনের দ্বারস্থ বাসিন্দারা: বারবার পুরসভা ও প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সুরাহা না মেলায় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। আবাসনের এক বাসিন্দা বলেন, “পুরসভার টাকায় তৈরি আবাসন, আর পুরসভারই মদতে রাস্তা দখল হয়ে গেল! আমরা এখন জলবন্দি হওয়ার পথে।”

রাজ্যে যখন দখলদার উচ্ছেদে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখন পুরসভারই নিজস্ব এলাকায় এমন বেআইনি নির্মাণ কেন টিকে রয়েছে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে মালদা শহরে। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ কাঠামো ভেঙে রাস্তা উন্মুক্ত করুক পুর কর্তৃপক্ষ।