মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর এবার নিজের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা সাজাতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্যের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। বর্তমান পাঁচ জন মন্ত্রীর সাথে আরও নতুন মুখদের যুক্ত করে রাজ্য সরকার একটি ৩৩ থেকে ৩৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য আকার ও গোপনীয়তা:
গত ৯ মে শপথ নেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ পর, ১ জুন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বৃষ্টির আশঙ্কায় লোকভবনের মাঠের পরিবর্তে দোতলার হলঘরেই নতুন মন্ত্রীরা শপথ নিতে পারেন। যদিও বিজেপি বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে গোটা প্রক্রিয়াতেই রাখা হয়েছে চূড়ান্ত গোপনীয়তা।
কারা থাকছেন নতুন তালিকায়?
দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন মন্ত্রীদের নাম এবং দফতর বন্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর এবং রুদ্রনীল ঘোষের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া দীপক বর্মন, স্বপন দাশগুপ্ত, বঙ্কিম ঘোষ এবং ধ্রুব সাহার মতো বিশিষ্ট নেতাদেরও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দফতর বন্টন ও শুভেন্দুর কৌশল:
বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও অর্থসহ ৪২টি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রীর ওপর থেকে কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো শুভেন্দু অধিকারী নিজেই নিজের হাতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য দফতরসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
শপথ গ্রহণের পরপরই কোন মন্ত্রী কোন দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেই পোর্টফোলিও ঘোষণা করা হবে। বিজেপি হাইকমান্ডের নির্দেশ মেনে অভিজ্ঞ এবং নতুন মুখদের সঠিক সমন্বয়ে গড়া এই মন্ত্রিসভা রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে কতটা গতি আনতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্য বিজেপির অন্দরে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, যা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।





