পুজো মিটতেই পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি’র ‘অ্যাকশন’! দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩২৯ নিয়োগে প্রশ্ন, নজরে অয়ন শীলের সংস্থা

দুর্গাপুজো শেষ হতেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় এই এজেন্সির নজরে এবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩২৯টি নিয়োগ। এর মধ্যে ২০২০ সালে মাত্র একই দিনে ইন্টারভিউ ছাড়াই ২৯ জনের নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ইডির দাবি, ২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় মোট ৩২৯টি নিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের মার্চ মাসে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের সংখ্যাই ছিল ৩০৩ জন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা এই প্রত্যেকটি নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন এবং দাবি করছেন— পুরোটাই অর্থের বিনিময়ে হয়েছে।

সিবিআই চার্জশিটে উল্লেখ, ইডি’র অ্যাকশন:

সূত্রের খবর, ২০২০ সালে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় একইদিনে সম্পূর্ণ ইন্টারভিউ ছাড়াই ২৯ জনের নিয়োগ এবং ২০২০ সালে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে ৩০৩ জনের নিয়োগের বিষয়টি সিবিআই তাদের চার্জশিটে উল্লেখ করেছিল। এখন এতেই পুরো নজর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। ইডি বর্তমানে সেই অর্থের উৎস, লেনদেন এবং সুবিধাভোগীদের খোঁজ করছে।

এই সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রেই অন্যতম অভিযুক্ত অয়ন শীলের সংস্থা দায়িত্বে ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তদন্তে বারবার উঠে এসেছে যে এই সংস্থাই পুর নিয়োগ দুর্নীতির মাথা। অয়ন শীলের সংস্থার বিরুদ্ধে পুর নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়া বেআইনিভাবে চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

মন্ত্রীর অফিসে ২০ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি:

এই তদন্তের অংশ হিসেবেই গত শুক্রবার সকালেই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পুরোদমে ফের অ্যাকশনে নামতে দেখা যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। পাশাপাশি, দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের বাড়িতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। ইডি মনে করছে, এই তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির অর্থ এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।