সারা দেশের আট কোটি প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) গ্রাহকদের জন্য খুশির খবর। এবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততর করতে চলেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই ইপিএফও গ্রাহকরা সরাসরি ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে তাঁদের পিএফের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থার সফল টেস্টিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
ইপিএফও ৩.০: আমূল পরিবর্তনের পথে
বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তোলার জন্য আবেদন করলে তা মঞ্জুর হতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া ১ লক্ষ টাকার বেশি তোলার ক্ষেত্রে এমপ্লয়ারের ম্যানুয়াল অ্যাপ্রুভাল বা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। সামান্য তথ্যের অমিল থাকলেও ক্লেম রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কিন্তু নতুন ‘ইপিএফও ৩.০’ (EPFO 3.0) ব্যবস্থায় এই জটিলতা আর থাকবে না। সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় এই পদ্ধতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই টাকা গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
নতুন নিয়মে উমঙ্গ (UMANG) অ্যাপের মাধ্যমেই গ্রাহকরা জানতে পারবেন তাঁরা সর্বোচ্চ কত টাকা তোলার যোগ্য। ইউপিআই-এর পাশাপাশি, ইউপিআই এনেবেলড এটিএম-এর সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে। গ্রাহকরা তাঁদের ইউপিআই পিন ব্যবহার করেই এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। অসুস্থতা, উচ্চশিক্ষা, বিয়ে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে পিএফের টাকা পাওয়ার জন্য আর দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হবে না। ইপিএফও-র বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকরা তাঁদের জমানো তহবিলের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা বিশেষ প্রয়োজনে তুলে নিতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মোট জমানো তহবিলের ২৫ শতাংশ অর্থ ‘লক ইন’ হিসেবে জমা থাকবে।
জরুরি কিছু শর্তাবলী:
এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের কিছু প্রাথমিক নিয়ম মেনে চলতে হবে:
১. গ্রাহকের ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) অবশ্যই অ্যাকটিভ থাকতে হবে।
২. ইউএএন-এর সাথে আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড লিঙ্ক ও ভেরিফায়েড হতে হবে।
৩. পিএফ রেকর্ডের জন্মতারিখ এবং ইউএএন-এর তথ্যের মধ্যে পূর্ণ সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ সাধারণ চাকরিজীবী ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও জরুরি প্রয়োজনে নগদ অর্থের সংস্থান আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে। আগামী দিনে ইপিএফও-র এই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ভারতের শ্রমক্ষেত্রে বড়সড় স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।





