পাঁচ বছরের অপেক্ষার অবসান! ফের শুরু কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা, জানুন সব আপডেট

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও শুরু হতে চলেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা। হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এই তীর্থযাত্রার সূচনা হতে চলেছে আগামী ২০ জুন। সিকিমের নাথুলা রুট দিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন হবে। সিকিম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (STDC) চেয়ারম্যান লোকেন্দ্র রসাইলি জানিয়েছেন, এই বছরের তীর্থযাত্রার সরকারি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রথম ব্যাচের তীর্থযাত্রীরা ১৫ জুন সন্ধ্যার মধ্যেই সিকিমে এসে পৌঁছাবেন।

এই যাত্রার জন্য শারীরিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তীর্থযাত্রীদের কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ১৬ জুন তাঁদের ১৮ মাইল এলাকার অ্যাক্লিমাটাইজেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাঁরা দুদিন কাটাবেন। এরপর ১৮ ও ১৯ জুন তাঁদের ছাঙ্গু লেকের আরেকটি সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে। সমস্ত শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রস্তুতির পরই ২০ জুন প্রথম ব্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

চলতি বছরে নাথুলা রুট দিয়ে মোট ১০টি ব্যাচে তীর্থযাত্রা সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ব্যাচে থাকবেন ৫০ জন করে তীর্থযাত্রী। প্রতিটি দলের নিরাপত্তার জন্য এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে থাকবেন একজন লিয়াজোঁ অফিসার এবং একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। এবারের যাত্রায় প্রায় ৫০০ জন তীর্থযাত্রী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। লোকেন্দ্র রসাইলি জানান, “এই যাত্রার জন্য প্রায় ১,৫০০ জন আবেদন করেছিলেন। লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে ৫০০ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে।” ২০ জুন থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এই যাত্রা চলবে। তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (TAR) প্রতিটি ব্যাচের ১২ দিনের সফর শেষে তীর্থযাত্রীরা ফিরবেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কোভিড অতিমারির কবলে পড়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর লাদাখ ও অরুণাচলে সীমান্তে ভারত-চিন সংঘাত এবং ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় চিনা ফৌজের আগ্রাসনের ফলে পরিস্থিতির অবনতি হয়, যার জেরে প্রায় পাঁচ বছর এই তীর্থযাত্রা বন্ধ ছিল। তবে ২০২৫ সালে ভারত ও চিনের বিদেশ সচিব পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দীর্ঘদিনের এই জট কাটে। দুই দেশই পুনরায় তীর্থযাত্রা শুরু করতে সম্মত হয়। গত বছর সফলভাবে এই যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়ার পর, এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৫০ থেকে বেড়ে ৫০০ হয়েছে।

হিন্দু ধর্মে কৈলাস পর্বত ভগবান শিবের আবাসস্থল হিসেবে গণ্য। অন্যদিকে, মানস সরোবরের উৎপত্তি ভগবান ব্রহ্মার হাতে বলে বিশ্বাস করেন পুণ্যার্থীরা। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই হ্রদে স্নান করলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই স্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিন অধিকৃত তিব্বতে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করেন ভারতীয় ভক্তরা। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে ফের এই যাত্রার সূচনা ভক্তদের মনে বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করেছে।