পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি (UCC) নিশ্চিত! বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি, ২ জুলাই বড় পদক্ষেপ

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, এই সংক্রান্ত বিলের খসড়া আগামী ২ জুলাই রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।

কমিটির নেতৃত্বে প্রাক্তন বিচারপতি ইউসিসি বিলের খসড়া তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং একজন অতিরিক্ত সচিব সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটিকে চার সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা ইউসিসি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘এক দেশ, এক বিধান’-এর আদর্শ মেনে রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা কোনো আইন আর চলবে না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাটের ইউসিসি মডেলকে ভিত্তি করেই বাংলার খসড়াটি তৈরি হচ্ছে।

আদিবাসী ও কুড়মিদের সুরক্ষা এই বিলের একটি বড় দিক হলো, রাজ্যের প্রাচীন জনগোষ্ঠী বা মূলবাসীদের সুরক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আদিবাসী ও কুড়মি সম্প্রদায়কে এই প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। তাঁদের নিজস্ব রীতিনীতি ও সামাজিক প্রথাকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্ত।

রাজনৈতিক চাপানউতোর মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

  • বিজেপি নেতৃত্ব: রাজ্য বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপির কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। এক দেশের জন্য এক আইন হওয়া উচিত—এই দাবিতে আমরা বরাবরই অবিচল।”

  • কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ‘জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন’ ও ‘ভূমি জিহাদ’-এর মতো বিষয়গুলো টেনে এনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

  • বিরোধী পক্ষ: তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি বিভাজনমূলক রাজনীতিরই একটি অঙ্গ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়া অনুমোদনের পর বাংলার সামাজিক ও আইনি পরিমণ্ডলে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দেবে।