“ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে বন্দে ভারত”—ভারতের যে ৭টি আধুনিক প্রযুক্তির ধারেকাছেও নেই পাকিস্তান

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের মধ্য দিয়ে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের। দুই দেশের সমান্তরাল পথচলা শুরু হয়েছিল সেই সময়ই। তবে দীর্ঘ ৭৯ বছর পর আজ চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। উন্নতির সিঁড়িতে ভারত যেখানে তরতর করে উপরের দিকে উঠেছে, সেখানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। ভারতীয় সাধারণ মানুষের কাছে যে জিনিসগুলি দৈনন্দিন জীবনের এক্কেবারে স্বাভাবিক চাহিদা, তা আজও পাকিস্তানিদের কাছে রূপকথার গল্পের মতো।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক এমন ৭টি জিনিস বা প্রযুক্তির কথা, যা ভারত ছাপিয়ে গেলেও পাকিস্তান এখনও সেগুলির ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি:
১. UPI (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস)
তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে ভারতের গর্ব UPI। পাড়ার ছোট চায়ের দোকান, সবজি বিক্রেতা, অটোচালক, মুদি দোকান থেকে শুরু করে শপিং মল কিংবা ফুটপাথের ফুচকাওয়ালা— সব জায়গায় কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি পেমেন্টের চল রয়েছে ভারতে। বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে পরিণত হয়েছে এটি। অন্যদিকে, পাকিস্তানে ডিজিটাল পেমেন্টের কিছু ব্যবস্থা থাকলেও ভারতের মতো এত বিশাল ও সর্বব্যাপী পরিকাঠামো তারা আজও গড়ে তুলতে পারেনি।
২. হাই-স্পিড 5G ইন্টারনেট
ভারতে ৫জি পরিষেবা এখন আর শুধু বড় শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং হাজার হাজার ছোট শহর ও গ্রামেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনলাইন শিক্ষা, ভিডিও কল থেকে শুরু করে ব্যবসার কাজে হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে এই হাই-স্পিড ইন্টারনেট। অথচ পাকিস্তানে ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রথম ৫জি স্পেকট্রাম নিলাম এবং লাইসেন্স বিতরণের পর কিছু নির্বাচিত শহরে এর পরীক্ষামূলক বা সীমিত পরিসরে স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে 5G পৌঁছতে এখনও সেখানে ঢের দেরি।
৩. সুবিশাল মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক
বর্তমানে ভারতের মেট্রো শহরগুলি তো বটেই, এমনকি Tier-2 ও Tier-3 অনেক শহরেও মেট্রো পরিষেবা চালু হয়ে গেছে। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, লখনউ, পুনে, নাগপুর, আহমেদাবাদ, কানপুর, কোচির মতো শহরে মেট্রো এখন দৈনন্দিন যাতায়াতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উল্টোদিকে, পাকিস্তানে শহুরে গণপরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও ভারতের মতো এত বিস্তৃত ও আধুনিক মেট্রো কানেক্টিভিটি সেখানে নেই।
৪. বন্দে ভারতের মতো আধুনিক সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন
ভারতীয় রেল গত কয়েক বছরে ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর মতো একাধিক আধুনিক সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন চালু করে রেলযাত্রার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে। এই ট্রেনগুলিতে অটোমেটিক দরজা, আরামদায়ক চেয়ার কার আসন, অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি সিস্টেম এবং বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ে ট্রেন চালালেও, সেখানে বন্দে ভারতের মতো আধুনিক এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেন পরিষেবার কথা তারা কল্পনাও করতে পারে না।
৫. দেশজুড়ে বিস্তৃত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতে সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের গতি অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং আরও বহু মেগা প্রকল্প রাজ্যগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানে কিছু মোটরওয়ে নেটওয়ার্ক থাকলেও ভারতের মতো হাই-স্পিড এক্সপ্রেসওয়ের এমন বিশাল ও আধুনিক সম্প্রসারণ সেখানে অনুপস্থিত।
৬. বিশ্বের অন্যতম সস্তা মোবাইল ডেটা
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সস্তা মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী দেশগুলির একটি। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে ডেটা পাওয়ার সুবাদে দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ সহজেই ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন শিক্ষা, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারছেন। ভারতের এই অভাবনীয় ডিজিটাল বিপ্লবের পেছনে সস্তা মোবাইল ডেটা এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছে, যা পাকিস্তানের বাজারে বিরল।
৭. বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV)-এর দ্রুত প্রসার
সবুজ শক্তির ব্যবহারে ভারত এখন অনেকদূর এগিয়ে গেছে। দেশজুড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), ইলেকট্রিক স্কুটার, ই-বাস এবং চার্জিং স্টেশনের পরিকাঠামো দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। এমনকি বহু রাজ্য সরকার ইভি কেনার জন্য আকর্ষণীয় ভর্তুকিও দিচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানে বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে কিছু কাজ শুরু হলেও তাদের বাজার ভারতের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত।