পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন? গাড়ি সমেত পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ! মেমারি কাণ্ডে ধৃত স্বামীর দাবি ‘দুর্ঘটনা’

পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে স্ত্রী আসমতআরা বিবির (আশা) রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি চলন্ত চারচাকা গাড়ি রাস্তা থেকে পুকুরে নেমে যাওয়ার পর স্বামী সেখ মফিজুল (মুকুল) প্রাণে বাঁচলেও, স্ত্রী আসমতআরা জলে ডুবে মারা যান। এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও, নিহতের বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী মফিজুলকে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ।

খুনের অভিযোগ, ধৃত স্বামী পুলিশ হেফাজতে
শুক্রবার রাতে মেমারির ঘোষ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাল ফেলে পুকুর থেকে আসমতআরার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

আসমতআরার বাপের বাড়ির আত্মীয়রা এ ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত খুন। মুকুল তাঁর স্ত্রীকে জলে ডুবিয়ে খুন করে দুর্ঘটনার নাটক করেছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, গত এক বছর ধরে মফিজুল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। পথের কাঁটা সরাতেই আসমতআরাকে সে খুন করেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মুকুলকে গ্রেফতার করে শনিবার বর্ধমান আদালতে তোলে। আদালত অভিযুক্ত সেখ মফিজুলকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের গতি
শনিবার আসমতআরার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই আসমতআরার মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহে তেমন কোনও আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ‘জলে ডোবা’ হলেও, গাড়িটি ইচ্ছে করেই জলে ফেলা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

গাড়ির মেকানিক্যাল পরীক্ষা করা হবে।

রাস্তার যে জায়গা থেকে গাড়িটি পুকুরে নেমেছিল, সেই অংশের চাকার ঘর্ষণ খতিয়ে দেখা হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মফিজুলের পোশাক পরীক্ষা করা হবে। গাড়ির ভেতর আসমতআরার সঙ্গে মফিজুলের কোনও ধস্তাধস্তি হয়েছিল কি না, তা এতে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশি জেরায় মফিজুল বারবার দাবি করেছেন, তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এটি নিছক দুর্ঘটনা। তবে বাপের বাড়ির আনা খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় মেমারি।