উৎসবের রঙ আর কঠোর নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় সম্পন্ন হলো বাংলা নববর্ষের মূল আকর্ষণ ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রাজধানী ঢাকাবাসী মেতে উঠল বৈশাখী উৎসবে। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে এক ঘণ্টা পর পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
নতুন নাম, নতুন প্রতিপাদ্য: উল্লেখ্য, এবারই প্রথম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পরিবর্তন করে সরকারি সিদ্ধান্তে একে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আগেই জানিয়েছিলেন, নাম নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতেই এই পরিবর্তন। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ও ৫টি বিশেষ মোটিফ: শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় ছিল কয়েক স্তরের কড়াকড়ি। মিছিলে অশ্বারোহী পুলিশের পাশাপাশি ছিল বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট ও প্রক্টোরিয়াল টিম। এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ নজর কেড়েছে: মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। প্রতিটি প্রতীকই শান্তি ও ঐতিহ্যের আলাদা বার্তা বহন করেছে।
নির্ভীক গানের সুর রমনার বটমূলে: ভোরে রমনার বটমূলে বরাবরের মতো বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘ছায়ানট’। তবে এবারের আয়োজনে ছিল প্রতিবাদের সুর। ছায়ানট সভাপতি ড. সারওয়ার আলী ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ নিগ্রহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অশুভ শক্তির অন্ধকার ঠেলে সুরের শক্তিতেই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে।
উৎসবের আমেজ আর গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধনে ঢাকার এই বৈশাখী আয়োজন যেন বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন বার্তা দিয়ে গেল।





