“পচা মাংস, ফ্রিজে ফাঙ্গাস!”-নামী Arsalan, Nizam’s সহ ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল

কলকাতাসহ রাজ্যের খাদ্যপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা। দুর্গাপূজার ঠিক আগে শহরের প্রায় ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও খাদ্যপ্রতিষ্ঠানের ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরনিগম। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। তালিকায় রয়েছে কলকাতার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকান থেকে শুরু করে নামী মিষ্টির প্রতিষ্ঠানও। পুজোর মুখে এই সিদ্ধান্তে শহরের খাদ্য মহলে রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক অভিযানে নাগেরবাজারের আরসালান, বাইপাস সংলগ্ন সিমলা বিরিয়ানি, রিপন স্ট্রিটের করিমস এবং পুরনিগম ভবনের পাশের নিজামের মতো হেভিওয়েট রেস্তোরাঁর নাম উঠে এসেছে। গত কয়েক দিনে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১৬৭টি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাজারে লাগাতার অভিযান চালান পুর আধিকারিকরা। পরিদর্শনের সময় একাধিক জায়গায় ফ্রিজ ভর্তি পচা বা বাসি খাবার, মিষ্টির দোকানে নোংরা পরিবেশ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানে কেজি কেজি ফাঙ্গাস ধরা খাবার ও পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন খোদ আধিকারিকরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সমস্ত ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।

গত তিন দিনে রাজ্যজুড়ে মোট ২,৩৩৭টি হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পার্ক স্ট্রিটের মতো অভিজাত এলাকার একাধিক নামী রেস্তোরাঁর রান্নাঘরেও গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ ভোজ্য তেল, ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্ন। এমনকি মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ছানার মান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসন।

শুধু কলকাতা নয়, এই অভিযান ছড়িয়ে পড়েছে শহরতলিতেও। ট্যাংরার একাধিক রেস্তোরাঁয় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সোনারপুরের একটি পরিচিত রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কামালগাজির মিষ্টির দোকান, ধনেখালির আইসক্রিমের দোকান এবং বনগাঁ ও বাগদার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেও হানা দিয়েছেন আধিকারিকরা। হেলেঞ্চা বাজারের একটি মিষ্টির কারখানায় ছত্রাক ধরা দই এবং খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পুজোর আনন্দের মাঝে রেস্তোরাঁগুলোর এমন স্বাস্থ্যবিরোধী কান্ডে এখন রীতিমতো আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ।