নেহরুকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়লেন মোদি, দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রীর শিরোপা!

ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। ৪৩৯৯ দিনের নিরবচ্ছিন্ন কার্যকাল সম্পূর্ণ করে নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড অতিক্রম করলেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৩৯৮ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা এতদিন ছিল দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম। মোদির এই কৃতিত্ব ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, নেহরুর আগের কার্যকাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে গণ্য হওয়ায়, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিই এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

এই ঐতিহাসিক অর্জনে নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রনেতারা উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর ‘যুগান্তকারী শাসনব্যবস্থা’, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল ভারতের স্বপ্নকে বিশ্বনেতারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন কর্নিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “তিনটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট বা জন রায়ের মাধ্যমে ১৪০ কোটি মানুষের আস্থা অর্জন করে তিনি যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা সত্যিই বৈপ্লবিক।” তিনি ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনা এবং ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রশংসা করেন।

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়েকে এক পত্রে জানিয়েছেন, এই সাফল্য কেবল দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের প্রমাণ নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী মোদির দূরদর্শী চিন্তাধারা শ্রীলঙ্কাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে তাঁকে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’-এ ভূষিত করা হয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘নেতৃত্বের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্বিশত মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার এই সাফল্যকে তিনি ‘বিস্ময়কর’ বলে মন্তব্য করেন। ২০২৩ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফর প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ এবং ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা করেছিল।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ-বিসেসারও মোদির সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা এবং এক কঠিন যাত্রাপথকে সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত যে বিশ্বমঞ্চে অগ্রগণ্য কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে, সেই প্রশংসা উঠে এসেছে বিশ্বনেতাদের বার্তায়।

ইন্দিরা গান্ধি মোট ১৪ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকলেও, তাঁর কার্যকাল ছিল বিরতিযুক্ত। সেই তুলনায় নরেন্দ্র মোদির এই নিরবচ্ছিন্ন যাত্রাপথ ভারতীয় রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও জনসমর্থনের এক অনন্য নজির। প্রধানমন্ত্রীর এই শাসনকাল কেবল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই মাইলফলক ভারতের অটল অংশীদারিত্ব এবং ‘প্রতিবেশী-প্রথম’ নীতির এক অনন্য স্বীকৃতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy