“নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন!”-উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কিসের ইঙ্গিত দিলেন সোনম?

পাঁচ বছর অন্তর ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়াটাই কি গণতন্ত্রের শেষ কথা? নাকি সরকারের কাজে অসন্তুষ্ট হলে ভোটারদেরও তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত? দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন চেয়ে এবার ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ ডাক দিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবই একমাত্র পথ’
ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের সার্বিক কল্যাণে এখন একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন, আর তার জন্য শান্তিপূর্ণ বিপ্লবই একমাত্র পথ। ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যে, এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় ভারতের বর্তমান অগ্রগতি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, পঞ্চাশ বছর আগে যে দেশগুলি ভারতের সমকক্ষ ছিল বা পিছিয়ে ছিল, মাথাপিছু জিডিপির নিরিখে আজ তারা বহু দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে ভারত সমস্যায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিশানা না করে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর সমালোচনা করেছেন সোনম। তাঁর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ‘নেতা বেছে নেওয়ার পদ্ধতি’। ভালো নেতা না থাকলে গোটা দেশই ভুল পথে চালিত হতে পারে। পাশাপাশি, দেশের বহু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারত কীভাবে একটি প্রকৃত উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে?
তদন্ত ও প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের কথাও স্মরণ করিয়েছেন। তাঁর দাবি, এক দশক পেরিয়ে গেলেও দুর্নীতির রূপ বদল করে তা আরও বড় আকারে আমাদের সামনে এসে হাজির হয়েছে এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
‘পাওয়ার অফ রিকল’ ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
এর আগে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের জেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন সোনম। নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরও শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি বলেই তাঁর অভিযোগ। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি না হলে দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে পড়বে বলে মত তাঁর।
অন্যদিকে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ১৯৩৬ সালের সোভিয়েত ইউনিয়নের সংবিধানে ‘পাওয়ার অফ রিকল’ (Right of Recall)-এর মতো বিধান ছিল, যেখানে ভোটাররা তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজে সন্তুষ্ট না হলে যেকোনো সময়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁদের প্রত্যাহার করতে পারতেন। সোনম ওয়াংচুক ঠিক এই ধরনের আইনি ও কাঠামোগত বদলের কথাই বলতে চেয়েছেন। দেশের সৎ, নীতিবান এবং মেধাবী মুখগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের ভারতের জন্য একটি ‘নতুন মানচিত্র’ বা রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনা করছেন এই সমাজকর্মী।