হাতে মেহেন্দি পরার অপরাধ!, ঘরে ঢুকে তিন ভাগ্নি-ভাইঝিকে কুপিয়ে খুন

মুর্শিদাবাদের সুতিতে ঘটে যাওয়া এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। খেলতে খেলতে স্রেফ একটু চ্যাঁচামেচি করার অপরাধে নিজ ঘরে মেহেন্দি পরা অবস্থায় তিন ভাগ্নি-ভাইঝিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তাদেরই কাকার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশু। স্থানীয়দের তৎপরতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সুতির রঘুনাথপুরে?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশার বাড়ির পাশেই তার ভাগ্নি-ভাইঝিদের বাড়ি। প্রতিদিনের মতো ওই শিশুরা বিকেলে একসঙ্গে খেলাধুলা করত। ঘটনার দিন তারা এলাকার একটি দোকান থেকে মেহেন্দি কিনে বাদশার বাড়িতে যায় এবং বারান্দায় বসে হাতে মেহেন্দি পরছিল।

অভিযোগ, সেই সময়ে আচমকাই ঘর থেকে ধারালো হাঁসুয়া নিয়ে বেরিয়ে এসে তাদের ওপর এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে বাদশা। ঘটনার সময় রান্নাঘরে থাকা অন্য একটি শিশুর ওপরেও হামলা চালায় সে। এই পৈশাচিক হামলায় ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দু’জন ভাগ্নি এবং একজন ভাইঝি রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৪, ১০ ও ১২ বছর। অপর এক ভাগ্নি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

টোটোয় চেপে সোজা থানায় আত্মসমর্পণ

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নৃশংস এই কাণ্ড ঘটানোর পরেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ভীতি কাজ করেনি অভিযুক্তের মধ্যে। উল্টে সে হাতে সেই রক্তমাখা ধারালো হাঁসুয়াটি নিয়েই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে। এরপর রাস্তার এক টোটোচালকের গলায় সেই অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে জিম্মি করে সোজা থানায় গিয়ে পৌঁছয় সে এবং নিজেই আত্মসমর্পণ করে।

এদিকে, শুক্রবার সকালে ঘটনার তদন্তে পুলিশ এলাকায় পৌঁছতেই চরম বিক্ষোভ দেখান ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানান তাঁরা। কেউ কেউ বুলডোজ়ার দিয়ে তার বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ারও দাবি তোলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শুক্রবার অভিযুক্তকে জঙ্গিপুর আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। বাদশার বিরুদ্ধে খুন এবং মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলার সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

খুনের নেপথ্যে কি মানসিক অবসাদ?

হঠাৎ কেন এমন পৈশাচিক কাণ্ড ঘটাল বাদশা, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে তদন্তকারীদের মনেও। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, শিশুরা খেলাধুলোর সময় সামান্য চিৎকার-চেঁচামেচি করায় তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছিল, আর সেই আক্রোশেই এই হামলা।

তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত গোলাম সারওয়ার অত্যন্ত অন্তর্মুখী এবং ঘরকুণো স্বভাবের ছিল। তার ঘর তল্লাশি করে কিছু ওষুধপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখে তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা সে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগছিল। তবে এটিই একমাত্র কারণ, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বয়ান সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।