নীতীশের দশমবার শপথ, অন্যদিকে পরাজয়ের প্রায়শ্চিত্তে ভিটিহারওয়া আশ্রমে নীরব ধ্যানে প্রশান্ত কিশোর

বৃহস্পতিবার বিহারের রাজনীতিতে একদিকে ছিল রেকর্ড জয়ের উল্লাস, অন্যদিকে ছিল আত্মসমালোচনার নীরবতা। পটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার। আর ঠিক সেই দিনই রাজ্যের অপর প্রান্তে ভিটিহারওয়ার গান্ধী আশ্রমে দিনভর মৌনব্রত পালনে বসলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)।
‘ভুল করেছি, কিন্তু অপরাধ করিনি’:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো লড়ে একটিও আসন জিততে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ। এই ভরাডুবির পরই আত্মসমালোচনার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পিকে। তাঁর লক্ষ্য, দিনভর উপবাস ও নীরব ধ্যানের মাধ্যমে নিজের ব্যর্থতাকে বুঝে নেওয়া।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পিকে জানান, “মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি— কেন তাঁদের ভোটের ধরন বদলানো উচিত। তাই প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ এই মৌনব্রত।” তিনি যোগ করেন, “গত তিন বছরে যেভাবে কাজ করতে আমাকে দেখেছেন, তার দ্বিগুণ পরিশ্রম করব। পিছু হটার প্রশ্ন নেই। ভুল হতে পারে, কিন্তু কোনও অপরাধ করিনি।”
নীতীশের শপথে এনডিএ-র শক্তি-প্রদর্শন:
এদিন নীতীশ কুমারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কার্যত এনডিএ জোটের শক্তি-প্রদর্শন মঞ্চ হয়ে ওঠে। এই মঞ্চ থেকেই ১৯৭৪ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণ ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছিলেন।
শপথগ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও হরিয়ানার নয়াব সিং সাইনি, আসামের হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের এন চন্দ্রবাবু নাইডু-সহ এনডিএ-শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিহারের গভর্নর আরিফ মোহম্মদ খান এবং এলজেপি (আরভি) নেতা চিরাগ পাসওয়ান।
বিজেপি প্রথম, জন সুরাজ শূন্য:
সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট বড় জয় পেয়েছে। বিজেপি ৮৯ আসন এবং জেডিইউ ৮৫ আসন জিতে জোটের ক্ষমতা বজায় রাখে। অন্যদিকে, প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ একটিও আসন জিততে পারেনি। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে নীতীশ কুমার যেমন ‘পল্টু রাম’ উপাধি পেয়েছেন, তেমনই প্রশাসনিক সাফল্যের জন্য তিনি ‘সুশাসন বাবু’ নামেও পরিচিত।