বিধানসভায় ‘গুণ্ডা দমন বিল’, ভোট দানে বিরত ১৬ বিধায়কের তালিকা ফাঁস করলেন দিলীপ ঘোষ!

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ‘গুণ্ডা দমন বিল’। বিলের পক্ষে ১৭৬টি ভোট পড়লেও, এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ৪১ জন বিধায়ক এবং ভোট দানে বিরত থেকেছেন ২০ জন। বিল পাস হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। এবার এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভোট দানে বিরত থাকা বিধায়কদের নাম জনসমক্ষে এনে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বিধানসভায় গুণ্ডা দমন বিলের সময় যারা ভোট দানে বিরত ছিলেন, তারা আসলে সরকারি কর্মকাণ্ডের প্রতি উদাসীন বা নেপথ্যে ভিন্ন সমীকরণ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১৬ জন বিধায়কের নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও তালিকার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূলের বিধায়করা। তালিকায় নাম দেখা গেছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, পুলক রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্রের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীদের।
এই তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই শোরগোল পড়ে গেছে রাজনৈতিক অন্দরে। কারণ, বিধানসভার নথি অনুযায়ী ভোট দানে বিরত থাকা বিধায়কের সংখ্যা ২০ জন। কিন্তু দিলীপ ঘোষের তালিকায় ১৬ জনের নাম রয়েছে। বাকি ৪ জন কারা, সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে গেছে। এদিকে, যারা বিলের বিপক্ষে ৪১টি ভোট দিয়েছিলেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
কী এই গুণ্ডা দমন বিল?
রাজ্য সরকারের আনা এই নতুন বিলটির মূল লক্ষ্য হলো সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করা। বিশেষত, বেআইনি উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং গুন্ডামি, তোলাবাজি ও দখলি স্বত্বের মতো অপরাধ রুখতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বিলের বিশেষ দিকগুলো হলো:
কঠোর শাস্তি: এই আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: বেআইনিভাবে দখল করা বা অবৈধ উপায়ে তৈরি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে।
আইনি সংহিতা: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আদলে সমস্ত আইনি ধারা প্রয়োগ করা হবে এই বিলে, যাতে অপরাধীরা সহজে পার না পেতে পারে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিলটির উদ্দেশ্য ভালো হলেও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ভোটদান নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই ‘ফাঁস’ করা তালিকা আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে আরও উত্তাপ বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।