বর্ষার মরশুমে এল বড় পরিবর্তন! নিম্নচাপের হাত ধরে কি মুক্তি পাবে দক্ষিণবঙ্গ?

জুন মাস শেষ হয়েছে, আর বর্ষার প্রথম মাসের রিপোর্ট কার্ড বলছে, দেশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। দক্ষিণবঙ্গেও ঘাটতির পরিমাণ ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ ১২৫ বছরের আবহাওয়ার রেকর্ড বই বলছে, এ বার জুন মাস দেশের ইতিহাসে পঞ্চম শুষ্কতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০০৯ সালের মতো এ বারও প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টির এই খামতি। তবে জুলাই মাসে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। সামগ্রিক ঘাটতি ৬ শতাংশের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মাঝে জুলাইয়ের শুরুতেই বর্ষার প্রথম নিম্নচাপের হাত ধরে সুখবর মিলছে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা শুক্রবার নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। এই প্রথম নিম্নচাপের হাত ধরে বর্ষা এবার দক্ষিণবঙ্গে স্বমহিমায় ফিরছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নিম্নচাপ আমন ধান চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। ১৫ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্ট—এই সময়কাল আমন ধান রোপণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে, বিশেষ করে পুরুলিয়ায় ৪৬%, ঝাড়গ্রামে ৩৯% এবং বাঁকুড়ায় ৩২% বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। এই ভারী বৃষ্টি সেই ঘাটতি মিটিয়ে চাষের জমিতে প্রয়োজনীয় জলের জোগান দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই নিম্নচাপের পূর্বাভাসে একদিকে যেমন আশার আলো রয়েছে, তেমনই রয়েছে নগরবাসীর মনে জলযন্ত্রণার আশঙ্কা। মৌসম ভবন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে সোমবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার কলকাতা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনকি, কোথাও কোথাও একদিনে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। আর অল্প সময়ে এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি মানেই নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা। সোমবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
জুনের টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গ ও সিকিম বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও, মৌসুমী অক্ষরেখা হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে বঙ্গোপসাগরে আসার ফলে এবার পরিস্থিতি বদলানোর পালা। উত্তরবঙ্গ দুর্যোগ থেকে কিছুটা মুক্তি পেলেও, এখন সতর্ক থাকতে হবে দক্ষিণবঙ্গকে। চাষিদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এলেও, শহরের যানজট এবং জলজমা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন কতটা প্রস্তুত, এখন সেটাই দেখার।