কেমিক্যাল নয়, এবার মেটে সিঁদুর! বীরভূমের শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের লাগানো বিরল ‘সিঁদুর গাছে’ বাড়ছে দেশজুড়ে চাহিদা

পরিবেশবান্ধব জৈব সিঁদুর ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে গোটা দেশে। বীরভূমের পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যের গ্রাহকেরাও এখন কেমিক্যালযুক্ত সিঁদুর ছেড়ে প্রাকৃতিক বা ‘মেটে সিঁদুর’-এর দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আর এই চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বোলপুর শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী আশ্রম চত্বরে থাকা বিরল ‘সিঁদুর গাছ’।

রবীন্দ্রনাথের হাতে লাগানো গাছ:

বোলপুর শান্তিনিকেতনের আশ্রম চত্বরে এই বছর বিপুল পরিমাণে ফল ধরেছে সিঁদুর গাছে। মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে এই গাছের দর্শন মিললেও, বহু বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে হাতে দেশ-বিদেশ থেকে এই বিশেষ গাছটি এনে শান্তিনিকেতনে রোপণ করেছিলেন, যার স্মৃতি বহন করে চলেছে এই সিঁদুর গাছ।

আশ্রমের নীরব ও সবুজ পরিবেশে বর্তমানে এই গাছ এক নতুন সৌন্দর্য যোগ করেছে। স্থানীয়ভাবে এই ভেষজ সিঁদুরের ফল থেকে প্রাকৃতিক সিঁদুর, আবির (রং) এবং বিভিন্ন খাবারের রং তৈরি হয়। বহু সধবা মহিলা আজও ঐতিহ্য মেনে এই প্রাকৃতিক সিঁদুর ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

চাহিদা বাড়ছে কেন?

প্রকৃতিবিদদের মতে, এই গাছের ফল থেকে তৈরি সিঁদুর সম্পূর্ণ জৈব এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় কেমিক্যালযুক্ত সিঁদুরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে গ্রাহকেরা এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে দেশের অন্যান্য রাজ্য—বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, মুম্বই—থেকে এই প্রাকৃতিক সিঁদুরের চাহিদা বাড়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

এই মুহূর্তে আশ্রম চত্বরে থাকা সিঁদুর গাছে একের পর এক লালচে, রোমশ ফলের সমাহার নজর কাড়ছে বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে আগত পর্যটক এবং আশ্রমিকদের। প্রকৃতির সঙ্গে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এই মেলবন্ধন শান্তিনিকেতনের পরিবেশকে এক বিশেষ আবহ সৃষ্টি করেছে।