নির্মাণ কাজে গাফিলতি! ১৬০টি বিল্ডিংয়ের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে, দেখুন কী জানা গেল?

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুরসভা। বেআইনি ও নিম্নমানের নির্মাণ রুখতে তৈরি ‘হাই পাওয়ার কমিটি’-র অডিট রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে শহরের ১৬০টি নির্মীয়মাণ বহুতলের অডিট করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১১টি ভবনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কাজ আপাতত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? সোমবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে প্রথম দফার অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে জানান, অধিকাংশ বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে যে সরকারি নিয়ম বা শর্তাবলি মানার কথা, তা মানা হয়নি। অডিটে সবচেয়ে বড় যে ত্রুটি ধরা পড়েছে, তা হলো ‘লেবার সার্টিফিকেশন’-এর অভাব।

কী এই ‘লেবার সার্টিফিকেশন’? একটি বহুতল তৈরির জন্য দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক। শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শংসাপত্রই হলো এই ‘লেবার সার্টিফিকেশন’। অডিটে দেখা গিয়েছে, কলকাতার অধিকাংশ নির্মীয়মাণ বহুতল প্রকল্পের কাছেই এই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নেই। নির্মাণ কার্যে অদক্ষ শ্রমিক ব্যবহারের ফলে যে কোনো সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে, সেই আশঙ্কাই এই রিপোর্টের মাধ্যমে সামনে এল।

৩১ জুলাই পর্যন্ত বড় নিষেধাজ্ঞা: অডিট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং বৈধ ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ যাতে না চলে, তা নিশ্চিত করতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতার সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুরসভা।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এই বছরের ২৪ জুন তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরেই পুরসভা তড়িঘড়ি এই অডিট শুরু করে।

পুরসভার এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে শহরের নির্মাণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।