“চুরি ও রসিদহীন দানে ক্ষুব্ধ ভক্তরা”-ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে সরব শঙ্করাচার্য

সম্প্রতি অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভক্তদের একাধিক অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ে ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ এখন বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ভক্তদের অনুদান ফেরতের ভাবনা: সূত্রের খবর, অনেক দাতা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের দেওয়া প্রণামীর কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের দান করা সামগ্রী মন্দিরে প্রদর্শিতও হয়নি। এই অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায়, ট্রাস্ট এখন সংশ্লিষ্ট ভক্তদের প্রণামী ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে স্থান সংকুলান না হওয়া এবং ব্যবস্থাপনাজনিত সমস্যার কারণেই এই নতুন চিন্তাভাবনা। যদিও এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে এটি মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও বিচার বিভাগীয় রিমান্ড: প্রণামী চুরির অভিযোগে ধৃত ৮ অভিযুক্তের বিচার বিভাগীয় রিমান্ড আরও ১৪ দিনের জন্য বৃদ্ধি করেছে আদালত। গত সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রতিভা নারায়ণের আদালতে শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানি শেষে জানানো হয়েছে, পরবর্তী শুনানির জন্য অভিযুক্তদের ২৭ জুলাই আদালতে হাজির হতে হবে।
শঙ্করাচার্য বনাম ট্রাস্ট বিতর্ক: এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী বর্তমান ট্রাস্টের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ:
স্বচ্ছতার অভাব: ট্রাস্ট গঠন করার সময় কেন সিইও পদের ঘোষণা ছিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আর্থিক অনিয়ম: ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি অবিলম্বে ট্রাস্ট ভেঙে নতুন করে ধর্মীয় নেতাদের তত্ত্বাবধানে মন্দির পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
ভক্তদের ভিড় অব্যাহত: এত বিতর্ক ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাম মন্দিরের প্রতি ভক্তদের বিশ্বাস অটুট রয়েছে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত রামলালার দর্শন করতে অযোধ্যা আসছেন। গত ২৮ জুন রেকর্ড সংখ্যক ১ লক্ষ ২ হাজার ৬৭২ জন ভক্ত মন্দির পরিদর্শন করেছেন।
অযোধ্যা রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আর্থিক বিতর্ক এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েন আগামী দিনে কি বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আপাতত সেদিকেই নজর দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের।