নিটকাণ্ডে তুলকালাম সংসদ! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে মকর দ্বারের সামনে ইন্ডিয়া জোটের হুংকার!

নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। বরং এই একটিমাত্র ইস্যুতেই বর্তমানে সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সকাল সাড়ে দশটায় সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক মকর দ্বারের সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমস্ত সাংসদরা।

এর আগে বৃহস্পতিবারও এনডিএ (NDA) এবং ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা ঠিক একইভাবে মকর দ্বারের সামনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। বিরোধী দলগুলির মূল এবং একচুলও ছাড় না দেওয়া দাবি হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, পালটা অভিযোগ তুলে শাসকপক্ষ এনডিএ দাবি করছে যে, বিরোধীরা আদতে সংসদের ভেতরে কোনো ধরনের গঠনমূলক আলোচনা করতে না দিয়ে সচেতনভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের মাঝে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে মোদি সরকারের সামনে বিরোধীদের তিনটি প্রধান ও কড়া দাবি তুলে ধরেছে। সেই দাবিগুলি হলো—প্রথমত, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনরত তরুণ পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি হিংসার জন্য যারা সরাসরি দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; এবং তৃতীয়ত, দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নিট-কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাতের বেলা দেওয়া একটি ভিডিও বার্তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন যে, সংসদের অধিবেশন যখন সচল রয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর উচিত সরাসরি সংসদের ভেতরে এসে দাঁড়িয়ে অফিশিয়াল বিবৃতি দেওয়া, গভীর রাতে ক্যামেরার সামনে ভিডিও রেকর্ড করে একতরফা ‘মন কি বাত’ শোনানো নয়!

নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি ধারালো পোস্টে মল্লিকার্জুন খাড়গে লেখেন, “@narendramodi জি, আজ সংসদে আসার আগে অনুগ্রহ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে আসুন। প্রথমে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং যাদের সরাসরি নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ওপর লাঠি, ব্যাটন ও পেলেট গান ব্যবহার করে কণ্ঠরোধ করার নির্মম চেষ্টা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন। এরপরেই কেবল আমরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে রাজি হব।”

খাড়গের এই তীব্র আক্রমণের মূল কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি সাম্প্রতিক ঘোষণা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার আরও অনেক বেশি ‘কড়া’ আইন আনছে। তিনি জানান যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এমন একটি বিশেষ বিল আনার গুরুতর চিন্তা করছে যেখানে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং দোষীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির কঠোর বিধান থাকবে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের সংসদীয় দলের শ্রদ্ধেয়া চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী দেশের একটি প্রথমসারির ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্রে নিজের কলমে লেখা একটি অত্যন্ত জোরালো সম্পাদকীয়তে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন যে, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের মোকাবিলা অত্যন্ত “কাপুরুষতা এবং চরম নিষ্ঠুরতার” সঙ্গে করেছে। দেশের উদীয়মান যুব সমাজকে আগামী দিনের “ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী” হিসেবে সম্মান জানানোর বদলে তাদের যেন প্রত্যক্ষভাবে “দেশের শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

পুলিশি দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আর্জি জানিয়ে সোনিয়া গান্ধী আরও লিখেছেন, “এরা অন্য কেউ নয়, এরা আমাদেরই কোলের ছেলে-মেয়ে, আমাদেরই দেশের রক্ত-মাংসের তরুণ-তরুণী।” তাঁর এই বিস্ফোরক লেখায় গত ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানের দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় তথা “কলঙ্কের দিন” বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সেদিন খাস রাজধানী দিল্লির বুকে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করে এবং নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটে, যার ফলে বহু কোমলমতি পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়।